রংপুরে ইন্টারনেট ও ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে অফিসে ঢুকে কর্মকর্তাদের মারধোরসহ হত্যার হুমকি দেয়া যুবদল নেতার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কর্মকান্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার শুরু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মুন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
ভূক্তভোগী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে জানা যায়, ডিস ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রংপুর নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের কামাল কাছনা এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত ফিডারের মাধ্যমে পরিচালিত ডিসের লাইন কেটে দেয় জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিব। পরবর্তীতে এ ঘটনার বিচারসহ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবী জানিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারী সংবাদ সম্মেলন করে ফিডারের পরিবারের সদস্যরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই যুবদল নেতা। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিবসহ ৮ থেকে ১০ জন নগরীর প্রেসক্লাব এলাকার ক্যাবল ওয়ানের অফিসে ঢুকে কর্মকর্তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করে এবং ল্যাপটপসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ভাংচুর করে। এ সময় কামাল কাছনা এলাকায় যুবদল নেতা গালিবের লোককে নতুন ফিডার হিসেবে নিয়োগ না দিলে ওই ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জিএমসহ কর্মকর্তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হলে যুবদলের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরী হয়। রবিবার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ নুরুল ইসলাম নয়ন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী নানা অনাচারের কারণে যুবদল নেতা মনু ও গালিবকে দল থেকে বহিস্কার করে। সেই সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, মায়া ইন্টারনেট ও ক্যাবল ওয়ানের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।