মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের জেরে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রভাবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই সূচক ও লেনদেন—দুটিতেই উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকে পড়েন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিম্নমুখী থাকায় অতিরিক্ত বিক্রির চাপ না বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমায় প্রধান সূচক ১৩৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও। সিএএসপিআই সূচক কমেছে ২৪৫ পয়েন্ট। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দাম বাড়লেও ১৩৮টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কম।
লেনদেন শুরুর পরপরই বিক্রির চাপ বাড়ায় ডিএসইতে সূচক এক পর্যায়ে ২২৩ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়। পরে কিছুটা ক্রয়চাপ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বড় পতন নিয়েই লেনদেন শেষ হয়।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কর্মকর্তারা জানান, হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই একশ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকে পড়েন, ফলে দ্রুত বড় দরপতন ঘটে।
দিন শেষে ডিএসইতে ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে, বেড়েছে মাত্র ৩০টির এবং ৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।
লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা কম।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক। এছাড়া তালিকায় ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ওরিয়ন ইনফিউশন, রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা ও ঢাকা ব্যাংক।
এদিন দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি। এরপর ছিল ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন) এবং ব্যাংক এশিয়া।