বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানার দলীয় রাজনীতিতে ব্যবহার করা যাবে না- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা


প্রকাশ :

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানার দলীয় রাজনীতিতে ব্যবহার করা যাবে না। ইতঃপূর্বে রাজনৈতিক দলের স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধাদের গণমানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা ভবনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটির আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৯০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি চাকরি পেয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতি করা হয়েছে। এদের ডাটাবেজ তৈরি হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করছে। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রমাণসহ যাবতীয় তথ্য নিয়ে আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নানান অজুহাতে উপস্থিত হচ্ছেন না। এদের অনেকেই রাজনৈতিক অর্থাৎ দলীয় সরকারের অপেক্ষা করছে। দলীয় সরকার এলে তাদের যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হবে না।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তি মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় চাকরিপ্রাপ্ত হন। তদন্তে তিনি ভুয়া প্রমাণিত হন। তার গেজেট বাতিল করে দেওয়া হলে তিনি তার নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে মর্মে আদালতে মামলা করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আদালতে তার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দিতে বিলম্ব করছে। দ্রুত আদালতের রায় দেওয়া হলে এ রকম হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা সম্ভব হতো।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব। তিনি বলেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় ৫ লাখ এবং তাদের স্ত্রীদের চিকিৎসায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। সরকারি হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্ত্রীদের চিকিৎসায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আগাম অর্থ প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। লোভের ফসল হচ্ছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা বীর মুক্তিযোদ্ধার মনোগ্রাম পরিধেয় কাপড়ে লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল। এখন অবশ্য এদের আগের মতো দাপট নেই। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা লজ্জায় কিছুটা মাথা নত করেছে। এরা রাষ্ট্রের সঙ্গে ও গণমানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

তাই রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই গণমানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হয়ে বিগত সরকারের আমলে নয় বছর ধরে বন্ধ থাকা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন আহ্বায়ক কমিটির নিকট হস্তান্তর করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিদায়ী সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক, ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর (অব.) মুনিবুর রহমান, সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল্লাহিল শাফি, নুরুল ইসলাম, জাকারিয়া আহমেদ, অনিল বরুণ রায়, সিরাজুল হক, মনসুর আলী, আবুল বাশার প্রমুখ। এছাড়াও মহানগর ও জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কগণ বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্থপতি। তারা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। জুলাই যোদ্ধারা স্বৈরাচার সরকারকে উৎখাত করেছে। দুটি বিষয় এক হতে পারে না। তিনি বলেন, বানোয়াট ও ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে জাতি প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। এক্ষেত্রে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দাঁড় করানো হয়েছে। সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিদায়ী সংবর্ধনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ বলেন, কথিত নাগরিক অধিকারের নামে কোর্টে মামলা করে হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করা হয়েছে। এরা রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। আদালতের রায়ে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি আইন পরিপন্থী। আদালতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মাত্র এক আইনজীবী দাঁড়ান, অপর পক্ষে ভুয়াদের নাগরিক অধিকার রক্ষার নামে অর্ধশতাধিক আইনজীবী পক্ষ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে জন্ম নেওয়া ডিসি ও ইউএনওরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জেলা ও উপজেলা কমিটির নিকট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন হস্তান্তরে গড়িমসি করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তহবিল জেলা ও উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে না। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এদের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হতে চান।

সংবর্ধনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ ও মহানগর কমান্ডের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।স্মৃতি স্বরূপ  উপদেষ্টাকে  মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মনোগ্রাম সম্বলিত ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।