দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় লালমনিরহাটজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তরুণদের সংগঠন জেনজিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এসময় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেন এবং নতুন দায়িত্বে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সফলতা কামনা করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। অনেকেই মনে করছেন, তার নেতৃত্বে তিস্তা নদী ও উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে নতুন গতি আসবে। লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন থেকে প্রায় ৮৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তিনি।
জানা যায়, ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুল হাবিব দুলু। সে সময় তিনি উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এবং পরে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ও নদীভাঙন রোধে তিস্তার বাম তীরে স্প্যার বাঁধ নির্মাণসহ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেন বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
সংগঠনিকভাবেও তিনি বিএনপিকে শক্তিশালী করেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি। পরবর্তীতে তাকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঠিত নদী রক্ষা আন্দোলনেও তার নেতৃত্বে তিস্তা পাড়ে টানা ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজের স্বীকৃতি। অনেকেই মনে করছেন, এই অর্জনের মাধ্যমে শুধু লালমনিরহাট নয়, গোটা রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রিকশাচালক মফিজুল ইসলাম বলেন, আগেও দায়িত্বে থেকে তিনি উন্নয়ন করেছেন, এবার পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করেন তারা। রেলগেট এলাকার নুনবী খান বলেন, এই দায়িত্ব উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য গর্বের এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক একেএম মমিনুল হক জানান, দীর্ঘদিন অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এতে অঞ্চলের মানুষ সম্মানিত বোধ করছেন।