বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা


প্রকাশ :

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশে শুরু হয় অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রায় দেড় বছর দেশ পরিচালনার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হলো।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন এবং সরকার গঠন করেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয় পায় ২০৯টি আসনে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লাভ করে ৬৮টি আসন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি পায় ছয়টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হন। আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের ফল স্থগিত রয়েছে এবং এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোটগ্রহণ হয়নি।

একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার।

তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ দেখা দেয়। বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। দলটির দাবি, এ সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ফলে প্রস্তুতি থাকলেও তাদের পৃথক শপথ অনুষ্ঠান হয়নি।

বিএনপি সদস্যদের অবস্থানের কারণে কিছু সময়ের জন্য জটিলতা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—দুই ভূমিকাতেই শপথ নেন।

দিনের শেষ ভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অধ্যায়ে নতুন পর্বের সূচনা হয়। দেড় বছর পর আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ফিরে এলো।