আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও বিপুল সংখ্যক অস্ত্র এখনও বাইরে রয়ে গেছে, যা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থানায় জমা পড়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে ব্যক্তির নামে মোট ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে।
এ অবস্থায় সরকার কঠোর বার্তা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৮ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ সুপারদের বিশেষভাবে তাগাদা দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, জমা না পড়া অস্ত্রের বড় অংশ আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন কিংবা দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “জমা না দেওয়া প্রতিটি অস্ত্রই বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি।” তিনি জানান, বিভিন্ন সময় থানায় লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্র ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে।
আইজিপি স্পষ্ট করেছেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জনমনে আতঙ্ক কমানো এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ধরে রাখাই এর মূল লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এখন এসব অস্ত্রধারীকে অবৈধ অস্ত্র বহনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে কোনো ধরনের সশস্ত্র সহিংসতা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে না পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন—দু’পক্ষই সংঘাতমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।