বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

বাংলাদেশে অবাধ ভোট নিশ্চিতে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠি


প্রকাশ :

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন দুই সিনিয়র মার্কিন কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও। তারা এই চিঠি দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে।

গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পাঠানো চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য নির্ণায়ক মুহূর্ত। ভোটারদের জন্য এটি শুধু মত প্রকাশের সুযোগ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক অগ্রগতির বাস্তব ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

চিঠিতে তারা পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে অনুরোধ জানান। তারা জোর দিয়ে বলেন, ফেব্রুয়ারির ভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় ভোট।

কংগ্রেস সদস্যরা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হিসাব উল্লেখ করে তারা জানান, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগেই ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলে মূল্যায়ন করেছে—সেটিও তারা স্মরণ করিয়ে দেন।

চিঠিতে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নাজুক ও অস্থির বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের মতে, এই বাস্তবতা লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এক গণতন্ত্রপন্থী নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে জনতার হাতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও তারা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

কংগ্রেস সদস্যদের বক্তব্য, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র ভাঙার বড় সুযোগ। যদি ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত হবে।

সবশেষে তারা অনুরোধ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী পদক্ষেপ নিচ্ছে—সে বিষয়ে তাদের দপ্তরগুলোকে নিয়মিত অবহিত রাখতে হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই একটি আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দিতে হবে।