বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

২০৫০ সালে চরম তাপপ্রবণ শীর্ষ ৬ দেশে বাংলাদেশ


প্রকাশ :

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে চরম তাপপ্রবণ ছয়টি দেশের একটি হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক পূর্বাভাস।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী নেচার সাসটেইনেবিলিটি-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির বর্তমান ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, তবে শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের প্রায় ৪১ শতাংশ মানুষ—অর্থাৎ প্রায় ৩৭৯ কোটি মানুষ—অসহনীয় তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করবে।

গবেষণায় তাপঝুঁকি পরিমাপে ব্যবহার করা হয়েছে ‘কুলিং ডিগ্রি ডেইজ’ (সিডিডি) সূচক। বছরে ৩ হাজারের বেশি সিডিডি থাকা অঞ্চলগুলোকে ‘চরম তাপপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সূচক মূলত বসবাসযোগ্য তাপমাত্রা বজায় রাখতে কতটা শীতলীকরণ প্রয়োজন, তার একটি পরিমাপক।

এই মানদণ্ড অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ চরম তাপে বসবাস করবে—এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। গবেষণার প্রধান লেখক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জেসুস লিজানা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় গড় তাপমাত্রা প্রকৃত ঝুঁকিকে আড়াল করে রাখে। কারণ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক মাত্রার তাপের মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চরম তাপপ্রবাহ বাংলাদেশে হিটস্ট্রোক, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে বয়স্ক, শিশু এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী—যাদের এয়ার কন্ডিশন বা উন্নত শীতলীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সীমিত।

এতদিন বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান হুমকি হিসেবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়কে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, গবেষকরা বলছেন—চরম তাপ এখন এক নীরব কিন্তু সমান প্রাণঘাতী বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে শীতলীকরণের চাহিদা দ্রুত বাড়বে, যা ‘কুলিং ট্র্যাপ’ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর শীতলীকরণ বাড়লে জলবায়ু পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হবে।

অক্সফোর্ডের এই গবেষণা বিশ্বনেতাদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি যদি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়, তবে প্রাণঘাতী তাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তবে সেই সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ‘অত্যন্ত শীতল’ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের হার বর্তমানের ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। বিপরীতে ব্রাজিল, লাওস ও দক্ষিণ সুদানের মতো দেশে মাথাপিছু শীতলীকরণের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।