বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

গণভোটের প্রচারণা ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ


প্রকাশ :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয় প্রচারণা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি চারটি প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে ফটোকার্ড ও ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এসব ভিডিওতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী, নিহতদের স্বজন এবং গুম কমিশনের সদস্যদের বক্তব্য তুলে ধরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রচারণায় বলা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ব্যানার টানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থান নিতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত গণভোটের বিষয়বস্তু ও ভোট প্রদানের পদ্ধতি ব্যাখ্যার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। এ কারণে সরকারের প্রচারণামূলক ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ অবস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

উদ্বেগের বড় জায়গা হিসেবে উঠে আসছে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নির্বাচনকালীন সময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এসব কর্মকর্তা যদি সরকারি প্রচারণার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন, তাহলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেছেন, সরকারের এই প্রচারণায় আইনি কোনো বাধা নেই। তবে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে আইনগত প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও এ ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রচারণা ভবিষ্যতে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।