বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার শিশু নিহত


প্রকাশ :

২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৮ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থার অযোগ্যতা, ট্রাফিক আইন অজ্ঞানতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচলই শিশু মৃত্যুর মূল কারণ।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ৫৩৭ জন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক বা হেলপার, আর ৪৭১ জন পথচারী হিসেবে গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি শিশু মারা গেছে আঞ্চলিক সড়কে— ৩৬৪ জন। মহাসড়কে ২৮১ জন, গ্রামীণ সড়কে ২৯১ জন এবং শহরের সড়কে ৭২ জন শিশু নিহত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এক মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু ১৭৯ জন, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৩৮২ জন এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৪৭ জন মারা গেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশু মৃত্যুর পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে— শিশুদের জন্য নিরাপদ সড়কের অভাব, সচেতনতার ঘাটতি, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের উপস্থিতি, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকা এবং চিকিৎসা ব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা।

বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কে পথচারী শিশুদের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। কারণ এসব সড়ক প্রায় সব সময় বসতবাড়ি ঘেঁষা এবং শিশুরা খেলাধুলার সময় সরাসরি সড়কে চলে আসে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি কম থাকায় যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে।

সংস্থার সুপারিশে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ করতে হবে, পরিবার ও স্কুলে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, হাসপাতালগুলোতে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং একটি বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন করা উচিত। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করিয়ে দিয়েছে, শিশু মৃত্যুর এই চিত্র জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতিটি শিশু সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ, আর আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।