বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

ঢাকার ভোটকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, মোতায়েন থাকছেন ২৫ হাজার পুলিশ


প্রকাশ :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগরের ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ভোটের দিন দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঝুঁকি বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র। এর মধ্যে ১ হাজার ৮২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩০৩টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ কেন্দ্রে থাকবেন অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ সদস্য। কোনো একটি ভেন্যুতে একাধিক ভোটকেন্দ্র থাকলে সেখানে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রতিটি পুলিশ সদস্যের কাছেই থাকবে আগ্নেয়াস্ত্র।

পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আনসার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। কেন্দ্রপ্রতি ১০ জন আনসার সদস্য এবং সহকারী সেকশন কমান্ডার পদমর্যাদার একজন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় থাকবেন আরও একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য।

নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, পুলিশ মোতায়েন ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে একটি সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার, ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং র‍্যাবের একজন প্রতিনিধি অংশ নেন।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ রাজধানীতেই অবস্থান করবেন। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও ঢাকায় বেশি থাকবে। নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে—তার বড় একটি মূল্যায়ন নির্ভর করবে রাজধানীর পরিস্থিতির ওপর। এ কারণেই ঢাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ঢাকার ১৫টি স্থানে বিশেষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে ব্যালট, বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ভোটগ্রহণ শেষে আবার সেখানে ফিরিয়ে আনা হবে। নির্বাচনী সামগ্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিবহনে প্রায় তিন হাজার যানবাহন রিকুইজেশন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভোটের দিন আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। কোনো প্রার্থী বা তাঁদের সমর্থকেরা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে র‍্যাব। ডিএমপির প্রতিটি অপরাধ বিভাগে র‍্যাবের ছয়টি করে দল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মাঠে থাকবে পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, বৈঠকে ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন, যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টানা সাত দিন দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্র অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মাঠে থাকবে।

ডিএমপির সূত্র জানায়, রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়, গুলশান কূটনৈতিক এলাকা ও উত্তরা এলাকায় চারটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগে থাকবে আটটি সাব-কন্ট্রোল রুম, যেগুলো থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।