বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে: ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে প্রধান উপদেষ্টা


প্রকাশ :

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতের কথা নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোট সুশৃঙ্খল, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, নির্বাচনটি হবে ফ্রি, ফেয়ার ও বিশ্বাসযোগ্য, যেখানে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় অ্যাপের সাহায্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন থাকবে, যাতে কোনো অনিয়ম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে র‍্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সচেতনতা কার্যক্রম চালাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা আছে কি না, সে বিষয়ে শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে লিখিত মতামত নেওয়া হয়েছে, যেখানে এ ধরনের কার্যক্রমে আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে নির্বাচন বা গণভোটে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও গণভোটের প্রক্রিয়া।

সাক্ষাতে ইইউর রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে। পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান জানান, তাদের মিশন দেশের সর্বত্র বিস্তৃত থাকবে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে এবং সার্বিক নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশজুড়ে ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের উপস্থিতি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।