ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ ও পেশাদার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ড. ইভারস আইজাবস।
তিনি জানান, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় দুই শতাধিক পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ৪৬ জন পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে বিভাগীয় শহরগুলোতে কাজ শুরু করবেন।
ড. আইজাবস বলেন, ইইউর সব পর্যবেক্ষক নিরপেক্ষ মতামত প্রদানে দায়বদ্ধ। জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে ইইউ নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণই তুলে ধরবে। নির্বাচন শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে এবং প্রায় দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যও আলাদাভাবে মনিটর করবে ইইউ পর্যবেক্ষক দল। এ জন্য তাদের নিজস্ব ফ্যাক্ট চেকিং টিম সক্রিয় থাকবে।
প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জনগণের আস্থা অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তারা অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইইউর ধারাবাহিক সংলাপ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হবে। ইইউ মনে করে, বাংলাদেশ একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা রাখে।
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়াকে অস্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে আইজাবস বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ৬৪ জেলায় নারী, সংখ্যালঘুসহ সব জনগোষ্ঠীর নির্বাচনী অংশগ্রহণ পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখবেন ইইউ পর্যবেক্ষকরা।
এয়ারবাস কেনা সংক্রান্ত বিষয়টি নির্বাচনকে প্রভাবিত না করলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।
অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ইইউ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে ড. আইজাবস বলেন, নারী, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। পাশাপাশি ভোটার উপস্থিতির হারও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে তারা মন্তব্য করতে চায় না। তবে জনগণের স্বার্থ, নারী ও সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তি এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়—এমন নির্বাচনই তাদের প্রধান বিবেচ্য।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী সোমবার প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক।