বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

আজ থেকে চালু এনইআইআর, বন্ধ হবে অবৈধ হ্যান্ডসেট


প্রকাশ :

আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এর ফলে আজকের পর নতুন করে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন মোবাইল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ হারাবে।

ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্টকে থাকা মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আজ থেকেই এনইআইআর কার্যক্রমে আসছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত কিংবা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না। ব্যবসায়ীদের জমা দেওয়া আইএমইআই তালিকাভুক্ত ফোনও সচল থাকবে। শুধু নতুনভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া ডিভাইসগুলো যাচাইয়ের আওতায় আসবে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা ব্যক্তিগত ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুইটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এসব হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য তিন মাস সময় পাওয়া যাবে এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানান, আজ উপদেষ্টা পরিষদ মোবাইল আমদানি ও উৎপাদনে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে এনইআইআর বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর গ্রে মার্কেটের ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ হয়। তখন কার্যক্রম স্থগিতের কথা বলা হলেও বিটিআরসি জানায়, এ বিষয়ে কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি।

বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ, চুরি হওয়া মোবাইল ফোন বন্ধ এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এনইআইআর চালু করা হয়েছে। ডিভাইস শনাক্তে আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই মিলিয়ে নেটওয়ার্ক সচল রাখা হবে। তবে এই ব্যবস্থায় কল বা বার্তার তথ্য রেকর্ড করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকায় নজরদারি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার নিরাপত্তা দুর্বল হলে তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে গোপনীয়তা সুরক্ষা ও হয়রানি প্রতিরোধে নির্দিষ্ট ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এসব ধারা লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এনইআইআর ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।