বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা উসকানির অভিযোগ: মেটাকে অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক চিঠি


প্রকাশ :

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে মেটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে হামলায় উসকানি দেওয়া কনটেন্টের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) মেটাকে এই চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ–সংক্রান্ত কনটেন্টে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে সহিংসতা উসকে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনলাইন উসকানি বাস্তব সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।

চিঠিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়ায় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ধারণা, এসব ঘটনা ফেসবুক ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা ছড়ানোর ফল। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে সহিংসতাকে সমর্থন করেছেন এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আক্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির দাবি, বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও সহিংসতা উসকে দেওয়া বহু অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি মেটা। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

চিঠিতে মেটার কাছে কয়েকটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ–সংক্রান্ত কনটেন্টে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ, বাংলা ভাষাভিত্তিক কনটেন্ট মডারেশন জোরদার, সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আহ্বান থাকা পোস্ট দ্রুত অপসারণ এবং প্রেক্ষাপটভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার আহ্বানসংবলিত পোস্ট সরাসরি রিপোর্ট করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি জানান, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ই–মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ করবে।