বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

পতাকায় মোড়ানো কফিনে দেশে আনা হলো ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি মরদেহ


প্রকাশ :

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হয়েছে।শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পতাকায় মোড়ানো কফিনবাহী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সম্মুখসারিতে সক্রিয় থাকা ওসমান হাদি পরে ইনকিলাব মঞ্চ গড়ে তোলেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব অবস্থানের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে নিয়মিত অংশ নিতেন এবং তার বক্তব্যের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

ঘটনার এক মাসেরও আগে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন ওসমান হাদি। গত নভেম্বরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে ফোনকল ও বার্তা দিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তবে এসব হুমকির পরও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারণাকালে মোটরসাইকেলযোগে আসা হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সরকারিভাবে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় গুলিতে জড়িত মূল সন্দেহভাজন হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখের নাম উঠে এসেছে। তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোট ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ফয়সলের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু রয়েছেন।