আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ভোটাররা দুটি আলাদা ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন, তবে উভয় ব্যালট ফেলতে হবে একটি ব্যালট বক্সেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি সহজ ও সমন্বিত রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা রঙের এবং গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের। কেন্দ্রের ভেতরে উভয় ব্যালটে সিল মেরে ভোট প্রদান করতে হবে। ভোট দেওয়া শেষে দুটি ব্যালটই একই ব্যালট বক্সে ফেলতে হবে।
তবে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে। এ ক্ষেত্রে ভোটাররা গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পাশে নির্ধারিত ঘরে টিক (✓) অথবা ক্রস (✗) চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, বিরতিহীনভাবে।
গণভোট–সংক্রান্ত পরিপত্র
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন গণভোট–সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পরিপত্র জারি করেছে। এতে গণভোটের প্রশ্ন, ভোটগ্রহণের সময়সূচি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশ, ফলাফল একত্রীকরণ এবং গেজেট প্রকাশসংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
গণভোটের প্রশ্ন
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহের প্রতি ভোটারদের সম্মতি আছে কি না—তা নির্ধারণে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
গণভোটে মূলত যেসব বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে, তার মধ্যে রয়েছে—
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন; দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠন এবং দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি; সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা; সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত মোট ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়নের বিষয়েও গণভোটে মতামত নেওয়া হবে।
একই কর্মকর্তারা পালন করবেন দায়িত্ব
গণভোট অধ্যাদেশ জারি হলেও এ বিষয়ে আলাদা কোনো বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে গণভোট–সংক্রান্ত পরিপত্র অনুযায়ী।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যেসব রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন, তারাই গণভোটের দায়িত্বও পালন করবেন। একইভাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা দুটি কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করবেন।
গণভোটে ব্যবহার করা হবে একই ভোটকেন্দ্র ও একই ভোটার তালিকা। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি।
যেভাবে হবে ভোট গণনা
ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্র বা পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থী এজেন্টদের সামনে (যদি থাকেন) ব্যালট বক্স খুলবেন। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট এবং গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে।
সংসদ নির্বাচনের ব্যালটগুলো প্রার্থীভিত্তিকভাবে এবং গণভোটের ব্যালটগুলো ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করে পৃথকভাবে গণনা করা হবে।