৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২৩ তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির এক সভা সেগুনবাগিচা এক্সসেলসিয়া পার্কে সাবেক বিচারপতি ইমদাদুল হক আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, নিজকে শুদ্ধ করি, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি।
তিনি “মানব সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য” পরকালীন মুক্তির বিশ্বাস” “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ” “বাংলাদেশকে গড়তে হলে-সবার আগে নিজকে গড়ো” অন্তরে লালন করার জন্য দেশপ্রেমিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, দুর্নীতি নির্মূল হলে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার করে সৎ যোগ্য নির্মোহ জনবল নিয়োগ দিয়ে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে দুর্নীতিবাজদের কঠিন শাস্তির আইন কার্যকর করার দাবি জানান।
তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার, গনতন্ত্র, সুশাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।
তিনি নিজের ঘর, পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, গ্রাম, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, রাজধানীসহ সকল অফিস আদালতের কর্মস্থলে দুর্নীতিবাজদের পাহারা দেয়ার জন্য দেশপ্রেমিকদের প্রতি অনুরোধ করেন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, ধারাবাহিক ভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সকল শ্রেণি পেশার দুর্নীতিবাজ, আমলা দুর্বৃত্ত, ব্যবসায়িক দুর্বৃত্ত, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, জাতীয় বেঈমানরা নিজেদের স্বার্থে দুর্নীতিকেই নীতিতে পরিণত করেছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিলো দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করে লুণ্ঠনকারীদের বিচার করা, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, দুর্নীতি রোধে প্রশাসনের সকল স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার ও স্বচ্ছতার আওয়াজ তুলে পুরোনো আমলাতন্ত্রের সহায়তায় দুর্নীতির বন্দোবস্তই বজায় রেখেছে এবং নতুন সুবিধাভোগী তৈরি করেছে।
বিদেশে ৪০ হাজার কোটি টাকা পাচারকৃত দেশদ্রোহী জাতীয় বেঈমানদের তথ্য অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানান।
সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষানুরাগী ও মানবাধিকার সংগঠক কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, ঢাকার সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর ডাঃ এ এম নুরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক বিচারক ড. মোঃ শাহজাহান সাজু, সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, শহীদ আসাদ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান মিলন, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোঃ শামছুদ্দীন, কর্নেল (অবঃ) ড. প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী ড.লুৎফর রহমান, মানবাধিকার সংগঠক নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী, নাগরিক ভাবনার আহ্বায়ক মোঃ হাবিবুর রহমান, প্রকৌশলী মনির আহমেদ, পারভীন নাসের খান ভাসানী, সেতারা রেজভী লাকী প্রমুখ।