রংপুরের তারাগঞ্জে নিজ বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে নিহতের বড় ছেলে শোভন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানা পুলিশসহ পুলিশ ব্যুরো অবইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্তকরছে। এদিকে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে খিয়ার পাড়া শশ্মানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়ের শেষ কৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন।
তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুর্বনা রায়কে হত্যার ঘটনায় ছেলে বাদীহয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনসহ আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
রবিবার দুপুরে নিহত দম্পতির বড় ছেলে শুভেন রায় (৪০) তারাগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করেন।তিনি জানান, ৬ ডিসেম্বর রাত ৯টা ২২ মিনিটে বাবা-মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন। পরদিন সকালে ভাগিনা দীপক রায়ের মাধ্যমে হত্যার খবর জানতে পারেন।
এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, রাতে যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে কোপাতে তার বাবা-মাকে হত্যা করে। ডাইনিং রুমে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়ের রক্তাক্ত মরদেহ এবং রান্নাঘরে সুবর্ণা রায়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় দুটো মরদেহেরই মাথার খুলি ক্ষতবিক্ষত হয়ে মগজ বের হয়ে ছিল।সকালে বাড়িতে কাজ করতে আসা দীপক চন্দ্র রায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে মই বেয়ে ঘরে ঢুকে প্রথমে যোগেশ রায়ের এবং পরে রান্নাঘরে সুবর্ণা রায়ের মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুশান্ত চন্দ্র রায়সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তারাগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.আই আবু সাঈম বলেন,গলাকেটে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকান্ডটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।
নিহত দম্পতির দুই ছেলে শুভেন রায় কর্মরত আছেন জঅই ৫ এর জয়পুরহাট সিপিপি ৩ ক্যাম্পে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না রায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য। তারা দুজনেই পরিবারসহ কর্মস্থলে থাকেন।গ্রামের বাড়িতে একা থাকতেন তাদের পিতা-মাতা। অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। এই দম্পতির নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এজাহার দাখিলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এখনো হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এদিকে হত্যাকান্ডের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় এবং তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সৎকার করা হয়েছে।
এর আগে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনাব্বর হোসেন ও ওসি রুহুল আমিনের উপস্থিতিতে যোগেশ চন্দ্র রায়ের মরদেহে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, তারাগঞ্জ কুর্শা ইউনিয়নের খিয়ার পাড়া গ্রামে নিজবাড়িতে অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৮০) ও স্ত্রী সুর্বণা রায় কে (৬৫) কুপিয়ে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। বিজয়ের মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।