শিশুকিশোরদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চায় যুক্ত করতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে লালমনিরহাটে শিশু কিশোরদের অমর একুশে জিজ্ঞাসা কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে 'শিশু কিশোরদের এই কুইজ প্রতিযোগিতটা' আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন 'সমৃদ্ধ লালমনিরহাট।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ বার্ড এন্ড লাইফ সোসাইটি ও ঝংকার যুব সাংস্কৃতিক সংগঠন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের একুশের প্রোগ্রাম আহ্বায়ক মুহিন রায়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের প্রধান উদ্যেক্তা ও প্রধান সংগঠক দীপক কুমার রায়।
আরো বক্তব্য রাখেন সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের উপদেষ্টা মুনিম হোসেন প্রতীক, বার্ডস এন্ড লাইফ সোসাইটির উদ্যোক্তা ও সংগঠক এবং ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনুপম রায় রূপক, মোগলহাট মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সহকারী তছলিমা তমা, লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এএসএম ইবনে জাবের সাহিদ, বিমল কান্তি রায়,ঝংকার যুব সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিব সুন্দর বর্মন ও বাংলাদেশ বার্ড এন্ড লাইফ সোসাইটির আহবায়ক ইনজামাম-উল হক উদয়।
ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। লালমনিরহাটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪০ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পুরো আয়োজনটি তিনটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল: 'ক' গ্রুপ: ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি।
'খ' গ্রুপ: নবম থেকে দশম শ্রেণি।
আরেকটি গ্রুপ হচ্ছে - তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত 'কচিকাঁচা গ্রুপ'।
কম্পিটিশনে প্রশ্নের বিষয়বস্তু ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট, ভাষা শহীদদের জীবন এবং প্রতিরোধের সংস্কৃতি। তিনটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ও পরিকল্পনায় এই অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়। আয়োজক সংগঠনগুলো হচ্ছে: 'সমৃদ্ধ লালমনিরহাট', 'বার্ড এন্ড লাইফ সোসাইটি' এবং 'ঝংকার যুব সাংস্কৃতিক সংগঠন'। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক মুহিন রায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপক রায় বলেন, একুশ আমাদের গর্ব, একুশ আমাদের চেতনা এবং একুশ আমাদের প্রতিবাদ প্রতিরোধের অন্যতম অঙ্গীকার। ১৯৫২ সালের একুশের মহান আন্দোলনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার দানা বেঁধেছিল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের ভাষার মর্যাদা কেবল প্রতিষ্ঠা করেনি দিয়েছে জাতীয়তাবাদের নতুন দিশা।
তিনি আরো বলেন,
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনির চৌধুরীর অমর সৃষ্টি কবর নাটকে যেমন 'মরা মানুষ' কিন্তু তারা যেন কবর থেকে উঠে এসে সমাজের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলছে। নাটকে তারা যেন কবরের মধ্যেও নিশ্চিত শুয়ে থাকতে পারছে না। এমন বিদ্রোহ এবং চেতনাই আমাদের সঙ্গী।
দীপক রায় আরো বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদদের আত্মত্যাগ মনে রেখে এই দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংগ্রামকে আমাদের আকাঙ্ক্ষায় ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই এবং বাংলাদেশ তথা লালমনিরহাট জেলাকে সমৃদ্ধ করার কাজই করে যাবো। সমৃদ্ধ লালমনিরহাট গড়ে তুলতে হলে এই জেলার শিক্ষা সংস্কৃতিকে শক্তিশালী আমাদের করতে হবে। সমাজকে মানবিক করতে হবে এবং এই জেলাকে উন্নত করতে হবে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সমৃদ্ধ লালমনিরহাটের উপদেষ্টা শামীম আহমেদ, সাদিক ইসলাম, মুনিম হোসেন প্রতীক ও সদস্য দীপালি রানী রায় প্রমুখ। (প্রেস বিজ্ঞপি