বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ অন্যান্য

প্রাচীন যেসব হজপথ দিয়ে দূর-দূরান্তের হাজিরা মক্কায় এসে সমবেত হতেন


প্রকাশ :

"কল্পনা করুন, একদল হাজি চীন থেকে যাত্রা শুরু করলো, তুর্কি ভূখণ্ড ও মাওয়ারাউন-নাহর অতিক্রম করে, পারস্যে নেমে ইরাকে পৌঁছালো, সেখান থেকে আরব উপদ্বীপের হৃদয়ে কিংবা হিজাজ উপকূলে গিয়ে, নবীর নগরীর দিকে রওনা হয়ে শেষে মক্কা নগরে পৌঁছালো।"

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক ডা. আতিফ মুতামিদের কল্পনায় আঁকা এই যাত্রা শুধু কল্পনা নয়; প্রায় এক হাজার বছর আগে অনেক হাজির বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল এটি। এই ভ্রমণ কখনও কয়েক মাস, কখনও এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতো, এমনকি ইবনে জুবাইর ও ইবনে বতুতার মতো পর্যটকদের ক্ষেত্রে বহু বছর পর তারা নিজ দেশে ফিরতেন।

সেই সময়ে হজ কেবল ধর্মীয় আচার ছিল না, বরং ছিল সংবাদ, জ্ঞান, ভাষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি বড় সুযোগ। হজ বাণিজ্যের সুযোগও তৈরি করেছিল এবং এই পথগুলোতে স্থাপত্যকলার উন্নয়ন ঘটিয়েছিল।

ডা. মুতামিদ বিবিসি আরবিকে বলেন, "আধুনিকতার পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোতে হজ সভ্যতাগত বিশ্বায়নের ধারণা তৈরি করেছিল, যা বর্তমান 'গ্লোবালাইজেশন' শব্দটির বহু আগের।"

তিনি বলেন, "হজের বিশ্বায়ন ছিল বিনিময়মূলক ও গঠনমূলক, একচেটিয়া বা উপনিবেশবাদী নয়; এটি সংস্কৃতি, জ্ঞান ও উপলব্ধির পারস্পরিক নৈকট্য সৃষ্টি করেছে।"সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য

''এই পথগুলো শুধু হাজিদের হজের স্থানে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম ছিল না, বরং ছিল ইসলামি বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রে প্রবাহমান ধমনী। সেইসাথে যা আবার উল্টো দিকেও প্রবাহিত হয়ে ইসলামি ঐতিহ্যকে নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছে এমন সময়ে যখন মুদ্রণ প্রযুক্তি ছিল না'', ডা. সাইয়্যেদ আবদুল মজিদ বকর তার বই হজপথের ভূগোলিক বৈশিষ্ট্য-এ উল্লেখ করেছেন।

এই পথগুলোর পাশে নির্মিত হয়েছিল মসজিদ, বিশ্রামাগার, প্রাসাদ, দুর্গ, খান, পানির ট্যাংক ও কূপ, যা ইসলামী সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। ইতিহাসবিদ ও ভ্রমণকারীরা এগুলোর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন।

এই পথগুলোতে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ভাষা ও সাহিত্যের আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হতো, যা বিস্তৃত ছিল দামেস্ক, জেরুজালেম, কুফা, বসরা, বাগদাদ এবং কায়রো হয়ে মক্কা ও মদিনা পর্যন্ত।হাজিদের যাত্রাপথে "মানাজিল" নামে পরিচিত বিরতি কেন্দ্র ছিল, যেখানে তাঁরা বিশ্রাম নিতেন। এগুলো ছিল মানবিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অনন্য উদাহরণ।

চীন ও ভারত থেকে শুরু করে আটলান্টিক উপকূল এবং ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজিরা একত্র হতেন, এবং শেষ পর্যন্ত তারা আরব ও ইসলামী বিশ্বের প্রধান হজপথগুলোতে মিলিত হতেন, বিশেষ করে ইরাক, শাম ও মিসরের পথে।

মীকাত

মক্কার কাছাকাছি পৌঁছালে পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানের ভিত্তিতে কাফেলার গতিপথ নির্ধারিত হতো, যেগুলো মক্কার প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।

এই মীকাতগুলো হলো ভৌগোলিক সীমা, যেখানে পৌঁছে হাজিদের ইহরাম পরিধান ও হজের নিয়ত করতে হয়:

যুলহুলাইফা (আবিয়ার আলী) – মদিনাবাসীর জন্য

জাতু ইরক – ইরাকবাসীর জন্য

কার্ন আল-মানাজিল (আস-সাইল আল-কাবির) – নাজদের জন্য

আল-জুহফা (রাবেগ) – মিসর ও শাম অঞ্চলের জন্য

ইয়ালামলাম (আস-সাদিয়া) – ইয়েমেনবাসীর জন্য