`প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শ’ ক্যাপশন দিয়ে ২৮/০৮/২০২৬ তারিখে একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করেছিলাম। একজন মন্তব্য করলেন, “গাল গল্প আর কত শুনব”।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্য – এই মন্তব্য সঠিক নয়। কেননা প্রেসিডেন্ট জিয়ার সততা ও জীবনযাপন সম্পর্কে গর্ব করার মত অনেক কিছুই বাংলাদেশের মানুষ জানে। ১৯৮১ সালে তিনি যখন শহীদ হন, তখন শাহবাগের সিভিল অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে আমাদের (৮১ ব্যাচ) বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ চলছিল। সে সময় কোটার প্রিন্সিপাল খালেদ সামস ছাড়াও বিভিন্ন ট্রেনিং ক্লাসে আগত সিনিয়র অফিসাররা তাঁর সততা ও ন্যায়নিষ্ঠতা সম্পর্কে মুগ্ধ হওয়ার মত অনেক কথা আমাদের বলেছিলেন।
সে সময় বঙ্গভবনের বাবুর্চি টিভি সাক্ষাতকারে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, একজন বাদশা এত সাধারণ খাদ্য খায় সেটা সে বঙ্গভবনে আর কখনও দেখে নাই।
দর্জি বলেছিল, প্রেসিডেন্টের পুরান প্যান্ট, শার্ট দিয়ে তারেক রহমান (মাননীয় প্রধানমন্ত্রি) ও আরাফাত রহমানের প্যান্ট, শার্ট বানিয়ে দেওয়া হয়।
আমি ২০০০ সালে লালমনির হাটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করি। সে সময় লালমণিরহাটের কালিগঞ্জ-আদিতমারি নির্বাচনি এলাকার এমপি জনাব মোঃ মুজিবর রহমানের সাথে আমার পরিচয় হয়। তিনি প্রথম দিকে বিএনপি করতেন। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। জনাব মুজিবর রহমান তাঁর নির্বাচনি এলাকা হতে ৫/৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০০০ সালে আমার অফিসে প্রেসিডেন্ট জিয়া ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে একটি গল্প বলেছিলেন।
১৯৮০ সাল। জনাব মোঃ মুজিবর রহমান তখন তাঁর নির্বাচনি এলাকা হতে বিএনপি’র এমপি। একদিন তিনি খবর পেলেন যে, প্রেসিডেন্ট জিয়া আগামী কাল তাঁর (প্রেসিডেন্টের) বাসায় সকালে তাঁর (এমপি সাহেব) সাথে নাস্তা করবেন। এমপি সাহেব রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। পরের দিন সকাল ৮ টার দিকে প্রেসিডেন্টের বাসায় পৌঁছালেন। তিনি ভিতরে ঢুকে দেখলেন, প্রেসিডেন্ট অফিসিয়াল ড্রেসে অফিস রুমে ফাইল দেখেছেন।
এমপি সাহেবকে দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি ওয়াসরুম ইউজ করবেন?” এমপি সাহেব হাঁ সূচক জবাব দিলেন। প্রেসিডেন্ট তাঁকে একটি দরজা দিখিয়ে দিয়ে বললেন, এটা দিয়ে ভিতরে গেলে একটি রুম পাবেন, সেই রুমের ওয়াশরুম আপনি ব্যাবহার করতে পারবেন।
তিনি ভিতরে গেলেন। রুমে যেয়ে দেখলেন, কক্ষে সাধারণ দুইটি বিছানা। এমপি সাহেব অনুমান করলেন, প্রেসিডেন্টের দুই পুত্রের কক্ষ। বিছানায় সাধারণ চাদর, বালিশ এবং সাধারণ একটি সুতির মশারি। তাঁর মনে হলো একটি গরীব দেশের রাষ্ট্রপতির বাসার জিনিষপত্র এমন হওয়াই উচিত।
তিনি ওয়াশরুমের কাজ সেরে বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। সামনের লনে একজন মালি কাজ করছিল। রাষ্ট্রপতির দুই পুত্র তারেক রহমান (মাননীয় প্রধানমন্ত্রি) এবং আরাফাত রহমান একটি ছোট গরুর কাছে দাঁড়ানো ছিলেন। বারান্দায় এমপি সাহেবের দাঁড়ানো দেখে মালি জিজ্ঞাসা করল, “স্যার, কি দেখছেন?”
তিনি বলেলেন, “রাষ্ট্রপতির বাসার ভিতরটা দেখছি”। তারপর তিনি মালিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এই গরুটা কিসের?
মালি জবাব দিল, “প্রেসিডেন্ট স্যার এটা কুরবানি দিবেন”।
এমপি সাহেব তার প্রতিক্রিয়ায় আমাকে বলেছিলেন, তার তখন মনে হয়েছিল বাংলাদেশের মত গরীব দেশের একজন প্রেসিডেন্টের এমন একটি ছোট গরুই কুরবানি দেওয়া উচিত।
লেখক: সাবেক জেলা প্রশাসক ,লালমনিরহাট।
মানুষ গড়ার কারিগর আলহাজ্ব করিম উদ্দিন আহমেদ রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা ও মানবিকতার এক অনন্য জীবন
৬ দিন আগে
আরিফ: প্রতিবাদী এক বিনয়ী মানুষের অসমাপ্ত গল্প
১ সপ্তাহ আগে