লালমনিরহাটে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার হারিয়ে যাওয়া চেক জালিয়াতি করে ২৪ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগে মেহেদী হাসান সম্পদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার নম্বর সি.আর. ৬৫১/২০২৬।
মামলার এজাহার ও আরজি সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. মোর্শেদা বেগম মনি বেতন উত্তোলনের জন্য রূপালী ব্যাংকের লালমনিরহাট করপোরেট শাখায় একটি হিসাব পরিচালনা করেন। গত ১০ জুন ২০২৫ তারিখে তার চেক বইটি হারিয়ে যায়। পরে তিনি লালমনিরহাট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় চেক বই হারানোর বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে হারিয়ে যাওয়া চেকের পাতাগুলোর অর্থ প্রদান বন্ধে ‘স্টপ পেমেন্ট’ নির্দেশনা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হারিয়ে যাওয়া ওই চেক বইয়ের একটি পাতা, যার নম্বর ঝইখঝ ১৫৬২৩১৪, ব্যবহার করে ২৪ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার এলাকার মেহেদী হাসান সম্পদ ওই চেকটি রূপালী ব্যাংকের লালমনিরহাট শাখায় নগদায়নের জন্য জমা দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আগে থেকেই চেকটির বিপরীতে ‘স্টপ পেমেন্ট’ নির্দেশনা থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি পরিশোধ করেনি। একই দিন ‘স্টপ পেমেন্ট’ ও ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেওয়া হয়।
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, ভুক্তভোগী শিক্ষিকার সঙ্গে আসামির কোনো ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল না। তার হারিয়ে যাওয়া চেক অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত বাদীর প্রাথমিক জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান। তদন্ত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান সম্পদের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আপনাকে কিছু বলব না, যা বলার কোর্টেই বলব।’
মামলার বাদী মোছা. মোর্শেদা বেগম মনি বলেন, তার করা জিডি, পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি এবং ব্যাংকের নথিপত্রে চেক হারানো ও ‘স্টপ পেমেন্ট’ দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।