বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

হাতীবান্ধায় স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় বিএসএফ দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যায়


প্রকাশ : (৩ ঘন্টা আগে)
হাতীবান্ধায় স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় বিএসএফ দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যায়

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বনচৌকি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার নং ৯০৭/২-এস এর নিকট কাঁটাতারবিহীন এলাকায় শূন্য লাইনে গরু চড়ানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণ এবং ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের ০৩ জন বিএসএফ সদস্যের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উক্ত বিএসএফ সদস্যরা বিজিবিকে অবগত না করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এলাকাবাসী ঘটনাটি তৎক্ষনাত বিজিবিকে জানায় এবং পরবর্তীতে আরও জনগণ উক্ত স্থানে জড়ো হলে তারা ০২টি শর্টগান ও ০১টি ওয়াকিটকি সেট ফেলে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পবরর্তীতে বিজিবি টহলদল উক্ত অস্ত্র ও ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করে। 

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৭/২-এস পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আমঝোল এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (২৮) দুপুরে সীমান্তসংলগ্ন জমিতে কৃষি কাজ ও গরু চড়াচ্ছিলেন লিটনের বাবা।তার মা সেখানে বাবার জন্য দুপুরের ভাত নিয়ে যায়।লিটন তার মাকে ডাকতে গেলে এ সময় বিএসএফের দুই সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন এবং নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

লিটনের চিৎকার ও বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। এ সময় এলাকাবাসী ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

ভুক্তভোগী লিটন মিয়া বলেন, “আমার বাবা সীমান্তের কাছে আমাদের ধানক্ষেতে কাজ করতে যান। আমার মা বাবার জন্য ভাত নিয়ে সেখানে যান। আমাকে দেখে বিএসএফ সদস্যরা এগিয়ে আসেন। আমি মাকে ডাকলে তারা আমাকে মারধর শুরু করেন। পরে এলাকাবাসী এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ঈমাম জানান,পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা হতে ৬টা৫০মিনিট পর্যন্ত সীমান্ত পিলার নং ৯০৭/৪-এস এর নিকট ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ সদস্যদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ ও স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার বিষয়টি কঠোরভাবে তুলে ধরা হয়। জবাবে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এছাড়াও, উদ্ধারকৃত ০২টি শর্টগান ও ০১টি ওয়াকিটকি সেট যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিএসএফ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন