শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

কালীগঞ্জে ২৬ বছর পর এতিমের জমি উদ্ধার করে দিল এলাকাবাসী


প্রকাশ : (৭ ঘন্টা আগে)
কালীগঞ্জে ২৬ বছর পর এতিমের জমি উদ্ধার করে দিল এলাকাবাসী

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া এলাকায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে দখলে থাকা এক এতিমের জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আদালতের রায়ের পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জমিটি দখলমুক্ত করা হয়।

জমির মালিক মিজানুর রহমান ওই এলাকার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। তার মা নয়নী বেগম বাবার মৃত্যুর পর অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর ছোটবেলা থেকেই দাদির কাছে বড় হন মিজানুর।

মিজানুর রহমানের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই তার জমি অন্যের দখলে ছিল। জমি ফিরে পেতে তিনি ২০২০ সালে আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মিজানুরের বাবা শাহজাহান আলীর মৃত্যুর পর তার মা নয়নী বেওয়া অন্যত্র বিয়ে করেন। এ সময় মিজানুর নাবালক থাকায় জমি নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। মামলায় মিজানুরের চাচা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মায়ের যোগসাজসে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে মিজানুর বড় হয়ে নিজ জমি ভোগদখলে নিতে গেলে চাচা শহিদুল ইসলাম বাধা দেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১৩ আগস্ট লালমনিরহাটের দায়রা জজ আদালত মিজানুর রহমানের পক্ষে রায় দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আদালতের রায়ের পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত করে জমিটি মিজানুর রহমানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ সময় স্থানীয় শরিফুল ইসলাম বলেন, আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করে প্রকৃত মালিককে তার জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে জমিটি নিয়ে ভোগান্তিতে ছিলাম। আদালতের রায়ের মাধ্যমে অবশেষে জমি ফিরে পেয়েছি। জমি উদ্ধারে সহযোগিতা করায় এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক জানান, তেতুলিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা অবনতি হতে পারে এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে স্থনীয়দের সাথে কথা বলে পুলিশ চলে এসেছিল।

 

বিজ্ঞাপন