এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় লালমনিরহাটের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান তিনটির শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের আশরাফপুর দাখিল মহিলা মাদ্রাসা থেকে ৮ জন, একই ইউনিয়নের কাজীর চওড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার এ.এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে এই তিন প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
এ.এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যালয়ের নিম্নমাধ্যমিক শাখার শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতা পেলেও উচ্চমাধ্যমিক শাখাটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করায় শিক্ষকদের পাঠদানে আগ্রহ কমে গেছে। এর পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে।
তবে অকৃতকার্য হওয়া অপর দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এ বছর লালমনিরহাট জেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মোট ১৮ হাজার ৪২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৩৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২৭ জন। গত সোমবার (১০ আগস্ট) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।