সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

রংপুর বিভাগে বাড়ছে তিস্তা-ধরলা নদীর পানি: নদীপাড়ের মানুষের মাঝে ভাঙনের আতঙ্ক


প্রকাশ : (৬ ঘন্টা আগে)
রংপুর বিভাগে বাড়ছে তিস্তা-ধরলা নদীর পানি:  নদীপাড়ের মানুষের মাঝে ভাঙনের আতঙ্ক

রংপুরে তিস্তা ও ধরলা নদীপাড়ে ভাংঙ্গনের আতংকে পড়েছেন নদীপাড়েরর মানুষ।কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে তিস্তা সেচব্যারাজের ৪৪ টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে আছেন। অনেকে ভাঙন ঝুঁকি এড়াতে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবার আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ। রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় রংপুরে ১১ দশমিক শুন্য মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নীলফামারীর ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হলেও সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৮১ মিটার।সকাল ৯টায় একই পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে পরিমাপ করা হয়। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকায় নীলফামারী জেলার ডিমলা ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন চরাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিম্নাঞ্চলে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।উজানের পানির টান পড়েছে রংপুরের নিম্নাঞ্চল গুলোতে।গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর সেতু পয়েন্টেও পানির প্রবাহ বেড়েছে। জেলার কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল পানির প্রবাহ ধারা। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার ধরা হয়।
তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে থাকায় গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
 স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জয়রাম ওঝা মৌজায় একসময় ৫শত মানুষের বসতি ছিল। সেখানে এখন নদীর দিকে তাকালেই মানুষের চোখে ভেসে ওঠে অনিশ্চয়তা। তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে একের পর এক বাড়ি বিলীন হওয়ার পথে।যে উঠানে সংসার, কাল সেখানে হয়তো বইছে নদীর স্রোত ধারা। নতুন করে নদীতে পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।যা পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর অঞ্চলে ধরলা নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে স্থিতিশীল রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুদিন কমতে পারে। ধরলা ও দুধকুমারের পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, উজানে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণেই তিস্তা নদীতে এই পানি বৃদ্ধি। উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকলে তিস্তা নদীর পানি যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।  

বিজ্ঞাপন