মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

দুদকের নজরে আসিফ মাহমুদ, ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ


প্রকাশ : (১৪ ঘন্টা আগে)
দুদকের নজরে আসিফ মাহমুদ, ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দে অনিয়ম করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দায়িত্বে থাকা তিন মন্ত্রণালয়ের বাজেটের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বাজেট ছিল ৪২ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী অর্থবছরের অবশিষ্ট বরাদ্দসহ এ খাতে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট ছিল ২ হাজার ৪২৩ কোটি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ৪৩৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বাজেটের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৭ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় ওই সময়ে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা কমে যায়। এ সুযোগে একটি চক্র প্রকল্প, দরপত্র ও বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে।

প্রকল্প ও টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, যুব উন্নয়ন ও শ্রম কল্যাণ কর্মসূচিতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ সরানোর অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচারের অভিযোগ

অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, প্রচলিত হুন্ডি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। এ কাজে প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ একটি চক্র সহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ একাধিক ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তরের পর ক্রিপ্টো ওয়ালেটে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া বিভিন্ন বড় প্রকল্প, দরপত্র, ই-জিপি নথি এবং বিশেষ বরাদ্দসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থের লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য জানা যায়নি। দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ বা পাচারের অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন