ভারতের থেকে নেমে আসা তিস্তা,ধরলা,সাঁকোয়া, সানিয়াজান ও সিঙিমারী নদীর ভয়াবহ অব্যাহত ভাঙনে শত শত পরিবার,আবাদি জমি বিলীন, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের লোকজন। বর্ষা মৌসুমের আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী তীরবর্তী ফসলি জমি ও গাছপালা,সড়ক,পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ এবং হুমকির মুখে রয়েছে ধরলা ব্রীজ, স্থানীয় স্কুল, মসজিদ, কবরস্হানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,লালমনিরহাটের বুড়িমারী জিরোপয়েন্ট বাঁধের পাড় হতে নুর ইসলাম মিস্ত্রির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় বাড়ি ঘর ধরলার তীব্র ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে। নদীটি ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে উৎপন্ন হয়ে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে,। প্রবেশপথ থেকে নদীটি বেঁকে গিয়ে বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম অংশে ভাঙনের কবলে পড়ে, আবার উত্তর -দক্ষিণ অংশে ধরলার তীব্র ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী তীরবর্তী আবাদি জমি। ধরলার ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বুড়িমারীর ইসলাম পুর,বানিয়াডাঙ্গী, কাউয়ামারী বাজার, পাটগ্রামের ধবলসতী,মাঝিপাড়া ও হুমকির মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ,পৌর এলাকার ঝাকুয়াটারী,সোহাগপুর,সাহেবডাঙ্গা,সোহাগপুর ধরলা ব্রীজের দু পাশ,বাংলাবাড়ি, জগতবেড় ইউনিয়নের বাংলা বাড়ি যাদুর ডাঙ্গা লিচু বাগান সংলগ্ন,ভান্ডার দহ,ও জোংড়ায় বেশ কিছু এলাকায় ধরলা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। ভাঙনের ফলে পৌর এলাকার রাবার ড্যাম বেংকান্দা দুবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঝুঁকির মুখে,ধরলা নদীর করাল গ্রাসে পাটগ্রামের বেংকান্দায় সেনা বাহিনীর নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দু একটি পরিবার থাকলেও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কাউয়ামারী হয়ে ওই ফাঁড়ি সড়কটি মুছে যেতে বসেছে। দু পাশের বাড়ি ঘর,রাস্তাঘাট, কবরস্থান আবাদি শত শত একর জমি ধরলা নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আশির দশকে, ধরলা নদীর বিভিন্ন এলাকায় কিছু অংশে তীর সংরক্ষণ কাজ করলেও সেগুলো বর্তমানে অনেকাংশে ঝুঁকির মুখে।স্হানীয়দের অভিযোগ,বুড়িমারী বন্দর রক্ষার্থে বন্দর সংলগ্ন এলাকার দুধারে নদীতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ দেয়া দরকার। ধরলার নদীর এই পয়েন্ট গুলোতে প্রতি বছর নদী ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী কোনো বাঁধ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে নদীর নাব্যতা রক্ষায় খনন এবং ভাঙ্নরোধে কোন জিও ব্যাগ ডাম্পিং ব্যবস্হা গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানির স্রোত কমে গেলেও অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলন,এবং বর্ষায় পানি বাড়লে ধরলার তীব্র বাঁকে এই ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। নদীপাড়ের মানুষ এখন প্রতিটা মুহূর্ত পার করছে চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে।
জগতবেড় ইউনিয়নের বাংলাবাড়ি গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান,হবিবর রহমান জানান ধরলা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ফসলী জমি, স্কুল, রাস্তা সহ বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক, সাইদুল ইসলাম জানান- ধরলার গর্ভে আমার আবাদি জমি চলে গেছে। এখন শেষ সম্বল বাড়ি ভাঙলে আমরা কোথায় যাবো জানি না।
আরেক কৃষক বকুল মিয়া জানান, ২১ শতক জমি হারিয়ে আমি নিঃস্ব। এই ক্ষতিপূরণ দিবে কে।
ধরলা নদীর অংশে গড়ে ওঠা আম বাগানের মালিক মেহেদী হাসান নাইম বলেন, ধরলার বুকে ১.৫ একর জমিতে হাড়ীভাঙ্গা আম বাগান। নদীটি খনন না করার কারণে আম বাগানটির কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে, তীব্র আকার ধারণ করলেও নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করেনি। এদিকে পৌর এলাকা ধরলা নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় ইতিপূর্বে নদীর দুই তীর রক্ষার্থে মাফ যোগ করা হলেও অজ্ঞাত কারনে সেটি ভেস্তে যায়। এদিকে সানিয়াজান,দহগ্রামের সাঁকোয়া ও সিংগীমারী নদীর তীব্র ভাঙনে এলাকার আবাদী জমি,বসত বাড়ি, রাস্তাঘাট, কালভার্ট,বাজার,আশ্রয়ন,নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যায়ে নামে মাত্র বাউরা বাজার রক্ষার জিও ব্যাগ ও বালি সিমেন্টের চটের ছোট ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী ভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চটের ব্যাগ যা কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হচ্ছে। এদিকে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার ৫ উপজেলায় ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ নদীত ফেলছে। পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ও জোংড়া ইউনিয়নের ৪ টি পয়েন্টেে ৩ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভান্ডার দহ,মোল্লার বাজার, কুমারপাড়া ও পৌর এলাকার সরকারি কলেজ পাড়া এলাকায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে ৫৯০ মিটার এলাকায় জি ও ব্যাগ নদীতে ফেলছে। এলাকাবাসী জানান যা যৎ সামান্য। নদী পাড়ের মানুষের এই আর্তনাদ ও ভাঙন ঝুঁকি নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, পাটগ্রাম হাতীবান্ধা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান ইতিমধ্যে নদী ভাঙনের বিষয়ে অবগত করেছেন এবং ৪ টি পয়েন্টে কাজ চলছে। এছাড়াও ধরলা নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন রোধ এবং নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের জন্য আমাদের কারিগরি টিম ভিজিট করেছে। প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই বাঁধ সুরক্ষায় স্থায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ বলছে মাদক নিয়ে বিরোধ, তদন্তে জমি-বাড়ির বিষয়ও সামনে, পুলিশের দাবির পরও উঠছে নানা প্রশ্ন
১ সপ্তাহ আগে
দুই ছেলে কীভাবে চারজনকে হত্যা করল? পেছনে আরও কেউ নেই তো? মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের মা-বাবাদের প্রশ্ন
১ সপ্তাহ আগে
রাজারহাটে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও দৃশ্যমান হয়নি কালভার্ট
২ সপ্তাহ আগে