মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বিশেষ সংবাদ

আদিতমারীতে খাল খননে বদলে যাচ্ছে জীবন মান


প্রকাশ :

গত এক বছর আগেও হ্যামার গুলার আবাদ ঘরত তুলবার পাই নাই। অনেক কষ্টে আউশ ও বোরো ধানের চারা রোপন করলেও পানির কারণে আবাদ নষ্ট হয়ে যেত কিন্ত চলতি বছর খাল খনন হওয়ায় আল্লাহর রহমত আবাদ ভালভাবে ঘরত তুলবার পাইছি। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের কৃষক মীর মোহাম্মদ (৫২)।

শুধু কৃষক মীর মোহাম্মদই নয়, সেখানকার সুফল পাওয়া কৃষক আশরাফুল, সাইদুল,আবু তালেবসহ অসংখ্য কৃষকের একই কথা।

জানাগেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দেওডোবা গ্রাম হতে ভাদাই এলাকায় একটি সমবায় সমিতির আওতায় ২.৯ কিলোমিটার এলাকায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্রুত পানি নিস্কাশনের জন্য খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এটি আদিতমারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। বরাদ্দকৃত টাকায় একটি সমিতি ঘর ও রেগুলেটর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। আর একটি কাজ হচ্ছে দেওডোবা থেকে ভাদাই পর্যন্ত ২.৯ কিলোমিটার পর্যন্ত দেওডোবা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আওতায় খাল খনন করা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত খালটি খনন না হওয়ায় সেখানকার আশেপাশের লোকজন চাষাবাদ করলেও পানির কারণে ফসল ঘরে তুলতে পারত না। আর এবছর খালটি খনন হওয়ায় সুফল পাচ্ছেন প্রায় ৫ হাজার পরিবার। এ পরিবারগুলোর মধ্যে কয়েকটি পরিবারের সাথে কথা হয় এ প্রতিনিধির। তারা জোর দাবী দিয়ে জানান, এবছর পানি সঠিকভাবে নিস্কাশন হওয়ায় তারা তাদের উৎপাদিত ফসল অনায়াসে ঘরে তুলতে পেরেছেন। ফলে তাদের পরিবারগুলোর মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক সেই সাথে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রার মান।

এদিকে খালটি খনন হওয়ায় দেওডোবা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির ৫ শ পরিবার ওই খালে মাছ চাষের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তারা ২.৯ কিলোমিটার এলাকাকে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তুলতে চান। 

এসময় সমিতির সদস্য ও মাছ চাষী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা সমিতির সকল সদস্যদের অংশগ্রহণে মাছ চাষের পাশাপাশি খালের দুপাশে সবজি বাগান করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি। এতে করে অল্প দিনেই পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হবেন বলে তিনি আশাবাদী।

আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল হক জানান, এ প্রকল্পটির কাজ শেষ পর্যায়ে। তিনি আরো জানান, কাজটি শেষ হলে এখানকার প্রায় ৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবেন বলে তিনি দাবী করেন।