রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বিশেষ সংবাদ

ডেনিম রপ্তানিতে ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রবৃদ্ধি অব্যাহত


প্রকাশ :

জিন্স বা ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রায় চার দশকের পথচলার পর অর্জিত এই শীর্ষস্থান বছর বছর আরও সুসংহত হচ্ছে, সঙ্গে বাড়ছে রপ্তানির গতি।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের তুলনায় এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যা খাতটির ধারাবাহিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এবং ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি পৌঁছেছে ৯৬ কোটি ডলারে—প্রবৃদ্ধি ৩৪ শতাংশ। দেশটির বাজারে প্রায় ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২১ শতাংশ। এখানেও বাংলাদেশ শীর্ষ রপ্তানিকারক।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে ৬৪ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে। ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান উভয়েই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পর পাকিস্তানের অবস্থান, তাদের রপ্তানি ১০৩ কোটি ডলার। এছাড়া তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও চীনও উল্লেখযোগ্য অংশীদার।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত দেড় দশকে ডেনিম শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। আগে দেশে যেখানে মাত্র ১০-১২টি ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিল ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে এখন দেশীয় মিলগুলো মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছে, যা একসময় আমদানিনির্ভর ছিল।

উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। গ্যাস ও পানির মতো উপকরণ কম খরচে পাওয়া, পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরে আসাও রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া ঢাকায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীর আয়োজন বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও উন্নত ওয়াশিং সুবিধা যুক্ত হওয়ায় পণ্যের মানও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।