পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসছে। আত্মশুদ্ধির এই মাসকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই। প্রাথমিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Islamic Affairs and Charitable Activities Department–এর প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ধরা হচ্ছে। তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী শাবান মাসের চাঁদ দেখার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে রমজানের শুরু ঘোষণা করা হবে।
ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থেকে সিয়াম পালন করা হয়। পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও দান-সদকার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চর্চা বৃদ্ধি পায়।
রমজানের শেষ দশকের একটি বিশেষ রাত লাইলাতুল কদর হিসেবে পরিচিত, যা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। ক্যালেন্ডারভিত্তিক প্রাথমিক হিসেবে ২০২৬ সালে লাইলাতুল কদর ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতেই মানবজাতির পথনির্দেশনা হিসেবে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। এ কারণে মসজিদ ও ঘরে ঘরে ইবাদত, নফল নামাজ এবং ক্ষমা প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান শেষ হতে পারে ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার। তবে রমজান ২৯ নাকি ৩০ দিনের হবে, তা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ঈদুল ফিতরের তারিখেও একদিন এদিক-সেদিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রমজান শেষে মুসলমানদের জীবনে আসে আনন্দের উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রাথমিক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হতে পারে। সাধারণত শাওয়াল মাসের প্রথম তিন দিন সেখানে সরকারি ছুটি থাকে, আর রমজানের সময়কাল ২৯ বা ৩০ দিনের ওপর নির্ভর করে ছুটির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।