রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বিশেষ সংবাদ

এক বছরে ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে ২২শ জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত


প্রকাশ :

ভারতের রাজধানী দিল্লির সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে গত এক বছরে ২ হাজার ২০০ জনকে ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বছরগুলোর তুলনায় এ সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে মাত্র ১৪ জন এবং ২০২৩ সালে ৫ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হলেও এক বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত ও প্রত্যাবাসনের নির্দেশনার পর এই তৎপরতা বাড়লেও, যাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে তাদের প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ বা পরিচয় যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশ করেনি দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা জাল আধার কার্ড, ভোটার আইডি ও অন্যান্য নথিপত্র ব্যবহার করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিল। তবে এই দাবির বিপরীতে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বহু বাংলাভাষী মুসলিম নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও আসামের একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, বৈধ ভারতীয় আধার কার্ড ও নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেককে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভাষাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এই অভিযানের একটি আলোচিত উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা সোনালী খাতুন ও তার পরিবার। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে অন্তঃসত্ত্বা সোনালীসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে বাংলাদেশে পাঠায় দিল্লি পুলিশ। দিল্লিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করা পরিবারটির কাছে বৈধ আধার কার্ড থাকলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

প্রায় চার মাস বাংলাদেশে চরম দুর্ভোগের পর বিচারিক আদেশে প্রমাণিত হয় যে তারা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। চলতি মাসের শুরুতে তারা ভারতে ফিরে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনা দিল্লি পুলিশের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

একইভাবে আসামের নলবাড়ি জেলার বাসিন্দা সকিনা বিবির ঘটনাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার পর সুপ্রিম কোর্টের আদেশে জামিনে মুক্ত সকিনা গত মে মাসে নিয়মিত হাজিরা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হন।

পরবর্তীতে জুনের শুরুতে তাকে ঢাকার ভাষানটেক এলাকায় পাওয়া যায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে তাকে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পেলেও, এমন আরও বহু মানুষ বর্তমানে পরিচয় সংকটে পড়ে বাংলাদেশে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।