কানু ভাই জসমত খন্দকার স্যারের দীর্ঘ ১২৫০০ মাইল পথ পরিক্রমার পর ঢাকা বিমানবন্দরে নিঃশব্দ নিস্পন্দ জসমত স্যার কে অভ্যর্থনা জানালেন চোখের জলে।
গত পন্চাশ বছরের পথ পরিক্রমায় কানুভাই অবিরত স্যারের সাথে জীবনের গল্প করে গেছেন।
জসমতস্যার গল্প করতে দারুন পারদর্শী ছিলেন। সুললিত কন্ঠস্বর, শুদ্ধ উচ্চারণ, কথার মাঝে রসাস্বাদন, স্মিত হাসির জোয়ার তুলতো।
কানুভাই লালমনিরহাট বার্তা পত্রিকার সম্পাদক দীর্ঘ জীবন ধরে, উনি আবার দরাজ গলায় হাসতে পারেন। ওনার সাংবাদিকতা পেশায় কখনো স্যুট করে নাই জীবন। তারপরও তাঁর বীরমুক্তিযোদ্ধার পর পর যে পরিচয় দৃশ্যমান তা হলো “পত্রিকার সম্পাদক।”
ওনাকে নিয়ে লিখবার কেউ নেই।
জসমত স্যারের জীবনেতিহাস কানুভাই সবচেয়ে ভালো লিখতে পারতেন।
আজ লালমনিরহাটে রবিবার ২৪/৫/২৬,
জসমত স্যারের নশ্বর দেহ জোহরের নামাজের পর জানাজা হয়ে হাটখোলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন।
তাঁর সময়ের অসংখ্য স্বজন বন্ধুরা সব ওই গোরস্থানে শায়িত আছেন।
সফল একটা দীর্ঘ জীবনের আজ যবনিকাপাত হবে।
জীবনের শেষ অনেকগুলো বছর স্যার আমেরিকার সন্তানের সাথে থাকতে পেরে, উন্নত দেশের স্বাস্থ্য সেবা, জীবনের সেবা ও সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে অন্যান্য নানান সুবিধার মধ্যে সুখী ছিলেন।
ন্যুইয়র্কে ব্রুকলিনের “পান” জর্দা- তাঁকে দিয়েছিলো, পুরানো অভ্যাস বজায় রাখার সৌভাগ্য। জীবন ঐশ্চর্যময়। জীবন ক্লান্তিহীন ভাবে কিছু মানুষকে সহভাগিতার আনন্দে আনন্দিত করতে পারে, স্যার তাঁর এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবেন।
হীরা পাগলার সময়ে, এমটিহোসেন ইনিসটিটিউট এর পাশে নির্মিত ঈদগাহ মাঠটি এলাকার মানুষের ঈদ 🌙 নামাজ ও জানাজায় শামিল হতে ব্যবহৃত হয়, এটা একটা সদকায়ে জারিয়া।
স্যারের বাসা সংলগ্ন এই ঈদগাহ আরো শতবছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানবজাতির সেবা করে যাবে।
গাছ গুলো আরো বড় হবে।
আর ত্রিশ বছর পর হীরাপাগলার প্রজন্ম হারিয়ে যাবে, পৃথিবীর পাতা হতে,
যেমন করে আজ দুপুরের পর থেকে শুরু হবে, জসমত স্যারের জীবন দিনের অপসৃয়মান স্মৃতির গাঁথা।
পৃথিবীর সকল প্রান্তে বেঁচে থাকা সব মানুষেরা, সহজ সরল জীবন যাপন করে বেচে থাক এই শুভকামনা।
স্যারকে নিয়ে কজনার সাথে কথা হয়েছিলো, তা পেষ্ট করে দিলাম।
ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আমার পিতা ডা. ওমর এর ঘনিষ্ঠ জুনিয়র বন্ধু ছিলেন জসমত স্যার।
১৩/৪/১৯৯৭ এ আব্বার ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যুর পর
২৯ বছর বাঁচলেন।
স্যারের বয়স নব্বই পেরিয়ে গিয়েছিলো।
আব্বার মৃত্যুর চার/পাঁচদিন পর তাঁর রেখে যাওয়া ঔষধের দোকান, বাদশাহ খুলবার পর, আমি আব্বার ফেলে যাওয়া চেয়ারে বসে নানান স্মৃতি রোমন্থন করছিলাম।
জসমত চাচা এসে আমার পাশে বসলেন।
তারপর অবাক করা, কথাটা বললেন।
বাবা সাকি(আমার ডাকনাম) খাতাটা খুলে দেখতো, ওমর ভাই ঔষধের কিছু টাকা পেতেন।
বাদশাহ্ খাতা দেখে বাকীর অংক বলাতে, প্রথমে টাকাটা শোধ করলেন।
তারপর বললেন, ওমর ভাই এর কাছে দায়মুক্ত হলাম।
স্যার খুব স্পষ্ট উচ্চারনে সুন্দর করে কথা বলতেন।
প্রায় ত্রিশ বছর আগের স্যারের কাছে, এই সুশিক্ষার কথা , আমি এখন পর্যন্ত মনে রেখেছি।
কোথাও কোন পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করাটা সব ধর্মের সাথেও যায়।
স্যারের পরলোক যাত্রার এই দীর্ঘ পথের কেবল শুরু আজ। আমাদের জীবনকালের একজন আলোকিত মানুষের তিরোধানে, গভীর বেদনা অনুভব করছি।
ডা. সেলিমা নামাজে ছিলো, ওকে স্যারের মৃত্যু সংবাদ দিলাম।
সে শোক প্রকাশ করেছে।
আমরা আমাদের পরিবারের সবার পক্ষ থেকে, জসমত স্যারএর পরিবারের সন্তান সন্ততি ও আত্মীয় স্বজন সহ তাঁর সকল গুনমুগ্ধ ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানাই।
বাংলাদেশে কবর হবে, তাই অপেক্ষা।
আমার বাড়ির খুব কাছে মালবরো মুসলিম কবরস্থানে দাফন হলে, যেতে পারতাম।
হলো না।
জাকি/ নিউজার্সি
২০/৫/২৬
উনি আমাদের খালাত ভাই হতেন। সেই সুবাদে আব্বা তাকে বাড়ি হতে ডেকে এনে সিপি স্কুলে চাকুরি দিয়েছিলেন।বাজারে যাবার সময় দেখা হলেই ডেকে দোকানে বসায় কথা বলতেন।অনেক সময় আমরাই তাকে না দেখার ভান করে বাজারে যাতায়ত করতাম। ুনার মিসেস মানে ভাবিও খুব ভাল মনের মানুষ ছিলেন।বাসায় গেলে অনেক ইয়ারকি করতাম। কিন্তু কখনও মাইন্ড করতেন না। উনার চেহারাটাও খুব পরিস্কার মনে পরছে সকালে নিউজটা পাবার পর থেকে।
মহান আল্লাহতালা উনাদেরকে বেহেশত নসিব করুন।
ডা. সারওয়ারুল আলম
বাসা ৭,বাবুপাড়া
উনি আমাদের খালাত ভাই হতেন। সেই সুবাদে আব্বা তাকে বাড়ি হতে ডেকে এনে সিপি স্কুলে চাকুরি দিয়েছিলেন।বাজারে যাবার সময় দেখা হলেই ডেকে দোকানে বসায় কথা বলতেন।অনেক সময় আমরাই তাকে, না দেখার ভান করে বাজারে যাতায়ত করতাম।ওনার মিসেস -মানে ভাবিও খুব ভাল মনের মানুষ ছিলেন।বাসায় গেলে অনেক ইয়ারকি করতাম। কিন্তু কখনও মাইন্ড করতেন না। উনার চেহারাটাও খুব পরিস্কার মনে পরছে সকালে নিউজটা পাবার পর থেকে।
মহান আল্লাহতালা উনাদেরকে বেহেশত নসিব করুন।
জাকিঃ
তোমার আব্বা খলিল চাচার মৃত্যুতে আমার বাপ যেভাবে, কেঁদেছিলেন, আমার শিশু মনে সে ছবি দাগ কেটেছিলো।
কারন আব্বাকে তো কখনো কাঁদতে দেখিনি।
বক্কর চাচা আর আজিজার চাচার সাথে আব্বার খুব দোস্তি ছিলো।
আজিজার চাচা তোমাদের আপন চাচা ছিলেন মনে হয়।
ডা. রব্বানীর পিতা ?
ডা.সারওয়ার আলম, ঢাকা
জি ভাই
আব্বার আপন ছোট ভাই ছিলেন।ডাঃ রব্বানি ভাইয়ের বাবা।আজিজার চাচা আমাদের বাসায় থেকে পড়াশুনা করেছে ওমর চাচার সাথে। তাই আম্মার সংগে এই দুইজনের খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। আম্মা আপন ভাইয়ের মতই দুইজনকে আদর করত। আম্মা সবসময় তুই তুই করে কথা বলত। আব্বা মারা (২৯/৮/৭২)যাবার পর ওমর চাচাই ছিল আমাদের গার্জিয়ান। রাতদিন মটর সাইকেল নিয়ে বাবুপাড়ার বাসায় এসে খোজখবর নিয়ে যেত।ওমর চাচার উপকার আমাদের পরিবারের সবাই সাড়া জীবন মনে রাখবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ উনাদের বেহেশত নসিব করুন।
হ্যাঁ ভাইজান, আমার মামা শশুর হয় ।দেখা হলেই সুন্দর ভাষায় বলতো,-জামাই কেমন আছো ?
আমার মেয়ে নার্গিস কেমন আছে।
তার পান খাওয়া হাসিমুখটা এখনো ভেসে উঠে।
মতিন/ বিএনপি
আমাদের সবার খুব পছন্দের এবং কাছের ছিলেন স্যার। আল্লাহ স্যারকে জান্নাত বাসি করুন। স্যারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি,এবং পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমিন।
ডা. রাবেয়া বেগম,
ঢাকা।
বিদায় স্যার। বিদায় জসমত খন্দকার স্যার।
মহাকাল আপনাকে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত হতে সাহায্য করবে এই প্রত্যাশা।
জাকি/
বাংকার হিল, নিউজার্সি
২৪/৫/২৬