তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুটি বেরিবাঁধ ভেঙ্গে গ্রামে পানি ঢুকেছে । এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে। নদী গর্ভে ভাঙ্গনে বিলিনের হুমকিতে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
সন্ধ্যায় এ খবর লেখা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে ২৮.৯৫ এম.এস.এল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরোজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী গ্রামের সম্মুখে আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও বসভিটা বাঁচাতে মুলবাধের ভিতরে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে দুটি শাখা বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিলো। সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত শাখা বেরিবাঁধে ভাঙন দেখা যায়। মঙ্গলবার বিকেলেই বেরিবাঁধের দেড়শো মিটার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পানি ঢুকে গেছে গ্রামে। ফসলি জমি এখন পানির নিচে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। সবকিছু পানিতে ডুবে গেছে। এই ভাঙন শুরু হওয়ায় চিন্তিত তিস্তাপাড়ের মানুষ। সেই সাথে পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছে বিপাকে। অনেকেই বাড়িঘর নিয়ে ঠাঁই নিচ্ছেন অন্যের বাড়িতে। এছাড়াও চর বাঘধোগরা, চরকাচারী, চিলাখাল, বিনবিনিয়া, মুকুটপাড়া, প্রাইমারী স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, মসজিদ মাদ্রাসা, মন্দির ও রাস্তাঘাট হুমকির মুখে।
এলাকাবাসী জানান, তিস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের এই গ্রামগুলো হওয়ার কারণে কারনে প্রতিবছরে শত শত মানুষ ঘরছাড়া হচ্ছে। বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতি। কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। ইতিমধ্যে শাখা বেরিবাধের দেড়শো মিটার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখনও যদি মুল বাঁধও বিলিন হয় কিংবা মুল বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢোকে তাহলে হাজার হাজার মানুষ ভিটে ছাড়া হবে। তাই এই বাঁধ রক্ষায় দুই হাজার, চার হাজার বস্তা জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ হবে না। মিনার বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার বাধ জিও বস্তা ফেলে নয়, প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাধ নির্মাণ জরুরী। এসময় তিনি শাখা বেরিবাধ স্থায়ীভাবে নির্মাণেরও দাবী জানিয়েছেন।অপরদিকে তিস্তার ভাঙনে, বাড়ি ঘর, ভিটে মাটি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ঘর বিলিন হয়ে গেছে। আমরা এখন নি:শ্ব। তাই আমরা রিলিপ-টিলিপ কিছু চাই না। আমরা স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ চাই।
তিস্তা নদী গর্ভে বাড়ি হারানো আব্দুল করিম বলেন, চোখের সামনের গ্রামের অনেক বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। আমাদের ঘরবাড়িও যে কোন মুহুর্তে নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে। এই বসতভিটা বিলিন হলে আমার আর কোন জমি থাকবে না। বসতভিটায় তিনটা ঘর আছে। এই তিনটা ঘর রক্ষার জন্য অনেকের কাছে জায়গা চেয়েছি, কেউ দিচ্ছে না। কোন কিছু উপায় না পেলে সবশেষ নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে পরিবার অন্য কোথাও গিয়ে গিয়ে রিক্সা চালিয়ে খেতে হবে।
রংপুরের গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: জেসমিন আক্তার বলেন, বেরিবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শ করা হয়েছে। একই সাথে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বাঁধের ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে আরো লাগলে আরো বরাদ্দ দেওয়া হবে।