রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীর দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জিহাদ সরকার রানাকে শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক জিহাদ সরকার রানার বিরুদ্ধে থানায় মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার।
শনিবার (৯ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ সময় মামলা তুলে নিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বদরগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী মোছাঃ ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা থানায় দায়ের করেন। মামলায় জিহাদ সরকার রানাসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিরা হলেন ডিস ফারুক, রাফি মিয়া ও জাহিদ। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে আসামিরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে হাসপাতালে চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সকালের দিকে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকা অবস্থায় আসামিরা তার বাসার সামনে গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং চাঁদার টাকা নিয়ে বাইরে আসতে বলেন। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার নাতি সামিউল ইসলাম স্বপনকে মারধর করা হয়। তার মেয়ে মমতা খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আশিকুল আরেফিন বলেন, বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারী ফাতেমা বেগম তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে ডিস ফারুক, জিহাদ সরকার রানাসহ কয়েকজন ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম থানায় অভিযোগ দেন। শনিবার দুপুরে জিহাদ সরকার রানা ও ডিস ফারুকসহ তিন ব্যক্তি তার কার্যালয়ে গিয়ে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে তাকে চাপ দেন। তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিহাদ সরকার রানাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সঙ্গীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় জিহাদ সরকার রানা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।