বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের পাহারাদার, আপোষহীন নেত্রী ছিলেন। দেশনেত্রী গণতন্ত্রের জন্য স্বৈরাচার শাসকের সাথে কোনো আপোষ করেননি, পালিয়ে যাননি। গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সময় আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন, এদেশের মানুষকে ছেড়ে তিনি পালিয়ে যাননি। আরেক নেত্রী সন্তানকে ফেলে চলে গেছেন। আজকে এই অবাধ সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের জন্য তার বিশাল অবদান আছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে, সরকারি আদিতমারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী–কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুলের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ভাদাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক ভেন্ডারের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও লালমনিরহাট-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল, উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হবি, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরুল ইসলাম মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরের আলম সিদ্দিকী বাবু ও যুবদলের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী প্রমুখ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান—আমরা সে দল করি যিনি ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি যদি সেদিন স্বাধীনতা ঘোষণা না দিতেন তাহলে আজকে এত দল হতো না। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে বহির্বিশ্বে উপচে পড়া দেশে পরিণত করেছেন। তার সময় এদেশে চাষাবাদের জন্য উন্নতজাতের ধান, ট্রাক্টর, সেলোমেশিন এনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। আজকে বাংলাদেশে উন্নত ফসল ফলন হচ্ছে। তার সময়ে খাল কাট কর্মসূচি ছিল। আজকে এই দেশে তার অনেক অবদান আছে। এজন্য বিএনপি হলো উন্নয়নের দল, যখনই ক্ষমতায় এসে এদেশের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করে থাকে।
ধানের শীষ মার্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, ধানের শীষ মার্কা হলো দেশের সর্ববৃহৎ মার্কা। নৌকা আর ঘাটে চলাচল করবে না। পাখা আর ব্যবহৃত হয় না—তার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক পাখা, দাড়িপাল্লার পরিবর্তে ডিজিটাল পাল্লা, লাঙ্গলের পরিবর্তে ট্রাক্টর, কলম চলে না—বকেয়া জিনিস নিয়ে ছাত্ররা লেখে না, আর কলমে কালিও ভরে না। এখন বলপেন, ল্যাপটপ ব্যবহার করছে। আর ধান, পাখা, দাড়িপাল্লা, বলপেন, লাঙ্গল পৃথিবীর সবাই ব্যবহার করে। এই আসনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের পূর্বের কোনো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই। কাজেই এই মার্কায় ভোট দিলে কোনো দিন মঙ্গল হবে না।
তিনি একটি দল প্রসঙ্গে বলেন, আপনাদের সবকিছুই দিতে পারব কিন্তু জান্নাতের টিকেট দিতে পারব না। যারা জান্নাতের কথা বলে ভোট চাইছে তারা হলো মুনাফিক ভণ্ড—তারা মানুষের ঈমান নিয়ে খেলা করে। এদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার—এদের থেকে বিরত থাকুন।
অন্য মার্কায় ভোট দিলে উন্নয়ন হবে না। আর বিএনপিকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে। আপনারা জানেন, আগামীতে কোন দল ক্ষমতায় যাবে এবং তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। আপনাদের উন্নয়ন করার জন্য একজন প্রতিনিধি দরকার, সেজন্য ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিতে হবে। ২০০১ সালে আমি এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়ে কেমন উন্নয়ন করেছি সেটা আপনারা সবাই জানেন, এজন্য আমি হব ইঞ্জিন—বাকিদের বগি হিসেবে টেনে নেব। সঠিক জায়গায় আপনাদের ভোট দিতে হবে। শেষে তিনি বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুলের হাতে ধানের শীষ মার্কা তুলে দিয়ে বলেন, আপনারা সব ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে এসে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।