দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ইতোমধ্যেই জনসমাগম বাড়তে শুরু করেছে। নানা জেলা থেকে মানুষ ঢাকার পথে রওনা হচ্ছেন— কেউ নেতা দেখতে, কেউ ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে।
উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম— দেশের সব প্রান্ত থেকেই ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়ছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কয়েক লাখ মানুষ এরই মধ্যে রাজধানীতে পৌঁছেছেন এবং আজ বুধবারও এই স্রোত অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানকে ঘিরে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি হতে পারে— এমন ধারণা নিয়েই প্রস্তুতি এগোচ্ছে। দলীয় নেতারা বলছেন, এটি কেবল দলীয় আয়োজন নয়; সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি রূপ নিতে পারে বড় জনসমাবেশে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। এর আগে বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তিনি হিথরো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করবেন। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছাবে।
তারেক রহমানের সঙ্গে একই বিমানে আসছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ দলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী।
বিমানবন্দরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাঁকে স্বাগত জানাবেন। সেখান থেকে তিনি নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনায় যোগ দেবেন। পরে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিএনপির জেলা, উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে আলাদা প্রস্তুতি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে শুরু করে দূরবর্তী অঞ্চলগুলোর নেতাকর্মীদের ঢাকায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
৩০০ ফিট এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বড় মঞ্চ। পুরো এলাকাজুড়ে মাইকিং, ব্যারিকেড ও ডিজিটাল ডিসপ্লের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা টিম মাঠে কাজ করছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় মানুষের এক বড় মিলনমেলা ঘটবে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক জানান, রাজধানীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের যাত্রাপথ ও কর্মসূচিকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দলীয় পর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের। পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটও সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানা গেছে।
ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন তারেক রহমান। এই দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে তাঁর। অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।