শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বিনোদন

যারা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, তারাই রূপালি পর্দার নায়ক


প্রকাশ :

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের ইতিহাস কেবল আলো-ছায়া আর ক্যামেরার গল্প নয়। এই অঙ্গনের অনেক কিংবদন্তি এক সময় অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়েছিলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে তারা যুদ্ধ করেছেন, আর স্বাধীনতার পর সংস্কৃতির ময়দানে ফিরে এসে গড়ে তুলেছেন দেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের শক্ত ভিত।

এই সাহসী শিল্পীদের গল্প নিয়েই আজকের আয়োজন।

খসরু

কামরুল আলম খান খসরু ছিলেন ঢাকা অঞ্চলের গেরিলা বাহিনীর অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি তিনি ছিলেন সক্রিয় সাংস্কৃতিক কর্মী। স্বাধীনতার পর ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তার উপস্থিতি স্মরণীয় হয়ে আছে।

ফারুক

আকবর হোসেন পাঠান দুলু, যিনি নায়ক ফারুক নামে পরিচিত, মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরান ঢাকার এক সাহসী তরুণ হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার বছরেই এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্র দিয়ে তার অভিনয়জীবনের শুরু। পরবর্তীতে তিনি ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়কে পরিণত হন।

সোহেল রানা

মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা ছিলেন একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার পর তিনি প্রযোজনা করেন দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। ১৯৭৩ সালে ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

জাফর ইকবাল

ঢালিউডের স্টাইলিশ নায়ক জাফর ইকবাল মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আশির দশকে দর্শকপ্রিয় অভিনেতায় পরিণত হন।

জসীম

অ্যাকশন ছবির পথিকৃৎ জসীম কলেজছাত্র থাকা অবস্থায় সেক্টর দুইয়ের অধীনে মেজর এটিএম হায়দারের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্র দিয়ে শুরু হয় তার অভিনয়জীবন।

হুমায়ূন ফরীদি

১৯৭১ সালে পড়াশোনা ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন হুমায়ূন ফরীদি। স্বাধীনতার পর মঞ্চনাটক দিয়ে শুরু করে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন এক অনন্য কিংবদন্তি।

আসাদুজ্জামান নূর

বাকের ভাইখ্যাত অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর সেক্টর ছয়ের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের আগেই থিয়েটারে যুক্ত থাকা নূরের টেলিভিশন যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে।

রাইসুল ইসলাম আসাদ

ঢাকার উত্তর বাহিনীর একজন গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে লড়েন রাইসুল ইসলাম আসাদ। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার অভিনয়ে এনে দেয় আলাদা গভীরতা ও বাস্তবতা।

এদের পাশাপাশি পপগুরু আজম খান, নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসূফ বাচ্চুসহ আরও অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে লড়েছেন। তাদের হাতেই গড়ে উঠেছে স্বাধীন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির দৃঢ় ভিত্তি।