রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বিনোদন

কখনও অভিনয়ে আসার ইচ্ছাই ছিল না: মাহি


প্রকাশ :

‘কখনও অভিনয়ে আসার ইচ্ছাই ছিল না। কিন্তু দেখুন, এখন নিজের পরিচয় তুলে ধরতে অভিনেত্রী ছাড়া বলার মতো কিছুই নেই।’ সামিরা খান মাহির মুখে এ কথা শুনে একটু অবাক হয়েছি। কিন্তু খেয়াল করে দেখলাম, তাঁর কথাটা একেবারে ভুল নয়। যদিও তিনি মডেলিং করেন, ডান্স পারফরমার হিসেবেও দেখা মিলেছে তাঁর; তবুও পরিচয় তুলে ধরতে গেলে সবকিছুর আগে ‘অভিনেত্রী’ শব্দটাই যোগ করতে হয়।

এমনিতেও কারও সফল ক্যারিয়ারের আদ্যোপ্রান্ত তুলে ধরতে গেলে যে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাহলো, আমরা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন পূরণে হাঁটতে থাকি গন্তব্যের দিকে। চলার পথে কখনও হোঁচট খাই, কিছু সময়ের জন্য থেমে যাই, আবার নতুন উদ্যমে শুরু করি পথচলা। এভাবেই একসময় পৌঁছে যাই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। কিন্তু মাহির বেলায় বিষয়টা একেবারেই আলাদা।

প্রথমত, মাহি অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন কখনও লালন করেননি। অথচ সময়ের পাকচক্রে হয়ে উঠেছেন সময়ের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন। দ্বিতীয়ত, মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে মাহি অভিনয় করে ফেলেছেন শতাধিক নাটকে, যা সত্যি চমকে দেওয়ার মতো। এর চেয়ে অবাক করা বিষয়, এই তরুণী তারকার বেশির ভাগ নাটক দর্শক মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে।


‘বোঝা’, ‘হেট স্টোরি’, ‘ঘর’, ‘সাকসেস পার্টি’, ‘তুমি আমার জান’, ‘খেয়াল’, ‘স্বপ্নের বিদেশ’, ‘আদরে রেখো’, ‘আক্কাস যখন আমেরিকা’, ‘ঠাডা’, ‘ম্যারেজ ব্রেকার’, ‘মেমোরি লস’, ‘যেমন জামাই তেমন বউ’, ‘বালক বালিকা’, ‘ডিয়ার বস’, ‘তবুও পাশাপাশি’, ‘সুদ’, ‘আক্ষেপ’, ‘ইশারা’, ‘কোটি টাকার জামাই’, ‘হানিমুন-২’, ‘হিটার’ ও ‘নেশার লাটিম’ থেকে শুরু করে তাঁর অভিনীত আরও বেশ কিছু নাটক আছে, যা নিয়ে দর্শকের মাঝে এখনও আলোচনা শোনা যায়। এ ছাড়াও অনলাইনে সদ্য প্রকাশিত ‘তোমাকেই চাই’, ‘ভেতরে আসতে দাও’ ও ‘বকুল ফুল’ নাটকগুলোয় অনিন্দ্য অভিনয়ের জন্য দর্শক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি।

ক্যারিয়ার গ্রাফের দিকে চোখ রাখলে প্রথমে যে প্রশ্নটি সামনে উঠে আসে তাহলো, অভিনেত্রী হওয়ার বাসনা লালন না করেও অভিনয় জগতে নিরলস কাজ করে যাওয়ার প্রেরণা পাচ্ছেন কীভাবে?

এর প্রশ্নে মাহি বলেন, ‘অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি এ কথা যেমন সত্যি, তেমনি এও সত্যি, একটি, দুটি করে নাটকে কাজ করতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়ে গেছে। এরপর যখন অভিনয়ের সূত্রে দর্শকের ভালোবাসা পেতে শুরু করলাম, তখন মনে হয়েছে, এটাই আমার নিয়তি নির্ধারিত কাজ। তাই মনপ্রাণ ঢেলে এই কাজই করতে হবে। নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে পরিণত অভিনয়শিল্পীতে। সেই ভাবনা থেকেই নিয়মিত ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি, ভিন্ন ধাঁচের গল্প ও চরিত্রে নিজেকে পর্দায় তুলে ধরতে।’


মাহির এ কথায় বোঝা গেল, কাজের বিষয়ে তাঁর এক ধরনের নিজস্ব বাছবিচার আছে। কিন্তু এত সংখ্যক নাটকে অভিনয়ের পর তিনি কি এই দাবি করতে পারনে, তাঁর সব কাজই দর্শক মনে ছাপ ফেলার মতো?

এ নিয়ে মাহির উত্তর, ‘আমার সব কাজই দর্শক মনে আঁচড় কেটেছে কিংবা সব শ্রেণির দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করেছে– এমন দাবি কখনও করিনি; তা সম্ভবও নয়। ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে গেলে সব সময় নিজের ভালো লাগা অনুযায়ী গল্প ও চরিত্রে কাজের সুযোগ মিলবে– বিষয়টা এমন নয়। সত্যি বলতে কী, বেশির ভাগ নাটকের গল্পই খুব হালকা ধাঁচের মনে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, কাহিনিতে তেমন কোনো গভীরতা নেই, চরিত্রেও নেই নতুনত্ব, তার পরও সেটি দর্শক পছন্দ করছেন। তাই কাজ শুরুর আগে এও অনুমান করা কঠিন, কোন গল্প, কোন চরিত্র কার মনে কীভাবে ছাপ ফেলবে। তার পরও যতটা পারি, অভিনেত্রীসত্তাকে খুশি রাখতে ভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার চেষ্টা করি।’

তার কথায়, “বকুল ফুল’ নাটকের কথাই বলি, এর চরিত্রটি আমার কাছে এতটাই আনকোড়া ছিল, কোনোভাবেই এই নাটকের প্রস্তাব ফেরাতে পারিনি। অভিনয়ের পর অন্য রকম এক আত্মতৃপ্তি মনের মধ্যে কাজ করেছে। সবশেষে যখন এই নাটকের জন্য দর্শক প্রশংসা পেতে শুরু করেছি, তখন মনে হয়েছে, এমন কিছু কাজের জন্যই নিত্যদিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছি। আগামী সময়ও এমন কিছু কাজের মধ্য দিয়েই নিজ পরিচিতি সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে চাই।”