বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ববিতা। আজ ৩০ জুলাই এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। তার আসল নাম ফরিদা আক্তার। তবে পর্দায় তিনি চিরকালই ববিতা নামেই পরিচিত। ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত টানা তিন দশক ঢাকাই চলচ্চিত্রে তার একচ্ছত্র রাজত্ব ছিল। সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন কোটি দর্শকের হৃদয়।
ববিতার জন্ম যশোরে, ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই। চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তার অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। তার বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পা- দুইজনই ছিলেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। পরিবারের এই পরিবেশই তাকে রূপালী পর্দার দিকে টেনে আনে।
আজ এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মদিনে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভক্তরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন তার অসামান্য অবদান। ববিতা শুধু একজন অভিনেত্রী নন- তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। তার সাথে বিশেষ আলাপচারিতায় উঠে এলো অভিনেত্রীর জীবন, কর্ম ও দর্শনের নানা দিক।
আপনার অভিনয়ের শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
আমাদের পরিবারের পরিবেশটাই ছিল সিনেমাময়। বড় বোন সুচন্দা সিনেমায় কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই শুটিং দেখতে যেতাম। এক সময় আমিও সুযোগ পাই। প্রথমে শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় করি। তারপর জহির রায়হান ভাইয়ের জ্বলতে সূর্য নিভে গেছে ছবিতে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু। তখন কি বুঝতাম, এই জগতে এত বড় একটা জীবন পার করব?
সবচেয়ে প্রিয় কোন চরিত্র?
সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ। ওটা শুধু একটা সিনেমা নয়, ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তাছাড়া সারেং বৌ, নয়নমণি, বসুন্ধরা- এগুলোর চরিত্রগুলো আমাকে আজও তাড়া করে ফেরে। এসব ছবির জন্য মানুষ আজও আমাকে মনে রেখেছে।
এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কী মনে হয়? কোনো আক্ষেপ আছে?
আমি কখনোই শুধু সিনেমা করার জন্য সিনেমা করিনি। চরিত্র দেখেছি, গল্প দেখেছি। পুরস্কার পেয়েছি, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি- এটাই আমার বড় অর্জন। আক্ষেপ বলতে যদি কিছু থাকে, সেটা হলো- ভালো গল্পের ছবি এখন আগের মতো হয় না। আমাদের সময় পরিচালকরা সাহিত্যভিত্তিক, সমাজ সচেতন ছবি করতেন। এখন অনেক কিছুই বদলে গেছে।
ঢাকার বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনার যাত্রাটা কেমন ছিল?
সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করা তো বিরাট ব্যাপার। অশনি সংকেত-এর জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলাম। বিশ্বজুড়ে ছবিটা প্রশংসিত হয়। সেই অভিজ্ঞতা আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। এর বাইরে ইউনেস্কো, ইউনিসেফের কাজেও যুক্ত হয়েছি। দেশের বাইরে গিয়ে যখন দেখি মানুষ আমাকে চিনে, সেটা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি।
বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন?
অভিনয়কে ভালোবাসতে হবে। শুধু গ্ল্যামার দেখে এ পেশায় আসলে হবে না। পড়াশোনা করতে হবে, নিজের স্কিল বাড়াতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকে থাকতে হলে নিয়মিত শিখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের প্রতি সততা রাখতে হবে।
ব্যক্তিজীবন নিয়ে কিছু বলুন-
একমাত্র সন্তানকে নিয়েই এখন আমার পরিবার। দেশে থাকলে ভিডিও কলে আর কানাডায় থাকলে তো ওর সঙ্গেই সময় কাটে। সিনেমা দেখার অভ্যাস আছে। নিজের পুরনো ছবি দেখি, বই পড়ি। সময় পেলেই শুটিং স্পটের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। সিনেমা আমার প্রেম, আমার জীবন।