শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ খেলা

যুবভারতীর ভাঙচুর নিয়ে মেসিকে দায়ী করলেন গাভাস্কার


প্রকাশ :

বিশ্ব ফুটবলের তারকা লিওনেল মেসির ভারত সফর নানা আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সফরের শুরুতে কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে কলাম লিখে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।

১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মেসির সফরের সময় স্টেডিয়ামে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রিয় তারকাকে প্রত্যাশিতভাবে দেখতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এতে গ্যালারিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং কিছু স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তবে কলকাতার পর হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লিতে মেসির সফর তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮–এ প্রকাশিত এক কলামে সুনীল গাভাস্কার লেখেন, কলকাতার ঘটনায় কেবল আয়োজকদের দোষারোপ করলেই হবে না, পুরো পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় মেসির স্টেডিয়ামে অবস্থান ছিল খুবই স্বল্প। যদি চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘ সময় থাকার কথা থেকে থাকে, তাহলে তা পূরণ না হওয়ায় দর্শকদের হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

গাভাস্কার আরও লেখেন, মেসি ভিআইপি ও কর্মকর্তাদের ভিড়ে ঘিরে পড়েছিলেন, তবে নিরাপত্তাজনিত বড় কোনো হুমকির কথা শোনা যায়নি। তার মতে, যদি মাঠে দর্শকদের জন্য কার্যকর কোনো আয়োজন, যেমন প্রতীকীভাবে পেনাল্টি কিক নেওয়ার মতো কিছু হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

কলকাতার আয়োজন নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্যের আগে অন্য শহরগুলোর সফরের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গাভাস্কার বলেন, যেসব শহরে সফর নির্বিঘ্নে হয়েছে, সেখানে প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে বলেই মনে হয়। তাই কলকাতার ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ নিজ নিজ দায়িত্ব কতটা পালন করেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

সফরের সূচি অনুযায়ী, মেসির স্টেডিয়াম ঘুরে দর্শকদের অভিবাদন জানানোর কথা ছিল। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, তিনি মাঠে ছিলেন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিনিট। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেসি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করলে দর্শকদের উল্লাসে পুরো গ্যালারি মুখর হয়ে ওঠে। তার সঙ্গে ছিলেন ইন্টার মায়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দি পল।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনীতিবিদ, কর্মকর্তা ও ভিআইপিদের ভিড়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। আয়োজকদের অনুরোধ সত্ত্বেও মাঠে লোকসমাগম কমেনি। পরে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আগমনসংক্রান্ত খবরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসিকে স্টেডিয়াম ত্যাগ করানো হয়।

সব মিলিয়ে কলকাতার ঘটনাটি এখনো আলোচনায় রয়েছে, আর সেই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে গাভাস্কারের কলাম।