মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

ফোনের বাক্স থেকে চার্জার উধাও, পরিবেশ সুরক্ষা নাকি খরচ কমানোর কৌশল?


প্রকাশ : (৬ ঘন্টা আগে)
ফোনের বাক্স থেকে চার্জার উধাও, পরিবেশ সুরক্ষা নাকি খরচ কমানোর কৌশল?

একসময় নতুন মুঠোফোন কিনলেই বাক্সে পাওয়া যেত চার্জার, চার্জিং কেব্‌ল ও ইয়ারফোন। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন অনেক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ফোনের বাক্সে চার্জার থাকে না। পরিবেশ সুরক্ষার যুক্তিতে এই পরিবর্তন আনার কথা বলছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এর ফলে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি আলাদা চার্জার বিক্রির সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

২০২০ সালে আইফোন ১২ সিরিজের সঙ্গে চার্জিং অ্যাডাপ্টার দেওয়া বন্ধ করে অ্যাপল। পরের বছর গ্যালাক্সি এস২১ সিরিজের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেয় স্যামসাং। এরপর অন্যান্য নির্মাতাও বিভিন্ন মডেলের ফোনের বাক্স থেকে চার্জার সরিয়ে নেয়। তবে এখনো অনেক স্মার্টফোনের সঙ্গে চার্জার দেওয়া হয়।

## পরিবেশ সুরক্ষার যুক্তি কতটা যৌক্তিক?

ফোন নির্মাতাদের যুক্তি, অনেক ব্যবহারকারীর বাড়িতে আগে থেকেই একাধিক চার্জার রয়েছে। তাই প্রতিটি নতুন ফোনের সঙ্গে আরেকটি চার্জার দিলে অপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য বাড়তে পারে।

এ ছাড়া বাক্সের আকার ছোট হলে প্যাকেজিংয়ের উপকরণ কম লাগে এবং একই পরিবহনযানে বেশি ফোন পাঠানো সম্ভব হয়। এতে পরিবহনসংক্রান্ত ব্যয় ও পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এই সুবিধা কতটা বাস্তবে অর্জিত হচ্ছে, তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীরা পুরোনো চার্জার ব্যবহার করছেন, নাকি নতুন চার্জার কিনছেন, তার ওপর।

## চার্জার বাদ দিয়ে কতটা খরচ বাঁচে?

ফোনের সঙ্গে চার্জার না দিলে নির্মাতাদের চার্জার উৎপাদন, প্যাকেজিং ও পরিবহনের খরচ কমে। বাক্স ছোট হওয়ায় পরিবহনেও সাশ্রয় হতে পারে। কোটি কোটি ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিটে সামান্য সাশ্রয়ও মোট হিসাবে বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে, নতুন চার্জার প্রয়োজন হলে ক্রেতাকে সেটি আলাদাভাবে কিনতে হয়। ফলে ফোন কেনার প্রাথমিক খরচের বাইরে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

তবে চার্জার বাদ দেওয়ার ফলে নির্মাতারা ঠিক কত টাকা সাশ্রয় করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া নিশ্চিত হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। একইভাবে এই সাশ্রয়ের কতটা ক্রেতাদের সুবিধায় প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

## দ্রুত চার্জিংয়ে বাড়তি খরচের আশঙ্কা

আধুনিক স্মার্টফোনে দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু সব চার্জার দিয়ে সব ফোনে একই গতিতে চার্জ দেওয়া যায় না। পুরোনো চার্জার নতুন ফোনে কাজ করলেও সেটি ফোনটির সর্বোচ্চ চার্জিং ক্ষমতা সমর্থন না-ও করতে পারে।

মানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পুরোনো চার্জার সাধারণত ব্যবহার করা যায়। তবে দ্রুত চার্জিংয়ের পূর্ণ সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট ক্ষমতা ও প্রযুক্তিসম্পন্ন চার্জারের প্রয়োজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে নতুন ফোন কেনার পর আলাদা চার্জার কিনতে হলে ক্রেতার মোট ব্যয় বেড়ে যায়। আবার আলাদা চার্জার কিনলেও সেটির উৎপাদন, প্যাকেজিং ও পরিবহনে সম্পদ ব্যয় হয়। ফলে চার্জার বাদ দেওয়ার পরিবেশগত সুবিধা কতটা, তা নির্ভর করে ক্রেতাদের ব্যবহারের অভ্যাসের ওপরও।

## ইউএসবি-সি বদলে দিচ্ছে চার্জিংয়ের অভ্যাস

ইউএসবি-সি প্রযুক্তির প্রসারে এক চার্জার দিয়ে একাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যন্ত্র চার্জ করার সুযোগ বেড়েছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও অনেক ল্যাপটপে এই সংযোগব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে।

ফলে প্রতিটি যন্ত্রের জন্য আলাদা চার্জার কেনার প্রয়োজন কমতে পারে। এতে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমানোরও সুযোগ রয়েছে। তবে একই সংযোগ থাকলেই সব চার্জার সমান গতিতে চার্জ দেবে, এমন নয়। চার্জারের ক্ষমতা, সমর্থিত প্রযুক্তি ও যন্ত্রের সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ।

## ক্রেতাদের জন্য বিকল্প রাখার সুযোগ

ফোনের সঙ্গে চার্জার দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ক্রেতাদের পছন্দের সুযোগ রাখা যেতে পারে। যাঁদের উপযুক্ত চার্জার রয়েছে, তাঁরা চাইলে চার্জার ছাড়া কম দামে ফোন কিনতে পারবেন। আর যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরা চার্জারসহ ফোন কেনার সুযোগ পাবেন।

এতে অপ্রয়োজনীয় চার্জার উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের বাড়তি খরচের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা সম্ভব। বিশেষ করে নতুন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ও যাঁদের দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট চার্জার প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এই বিকল্প কার্যকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ফোনের বাক্স থেকে চার্জার বাদ দেওয়ার পেছনে পরিবেশ সুরক্ষা ও খরচ কমানোর মতো একাধিক কারণ রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে নির্মাতারা কতটা লাভবান হচ্ছেন এবং ক্রেতারা কতটা সুবিধা পাচ্ছেন, তা বুঝতে খরচ, ফোনের দাম ও ব্যবহারকারীদের আচরণ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ তখনই বেশি কার্যকর হবে, যখন তা অপ্রয়োজনীয় উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপও যথাসম্ভব কমাবে।

বিজ্ঞাপন