বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

হরমুজ উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা


প্রকাশ :

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন জোরদার হয়েছে, ঠিক সেই সময় ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে জাহাজটির রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সম্ভাব্য এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ তাদের নির্দেশনা অমান্য করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া গোলায় জাহাজটির নেভিগেশন ও রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হবে—তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশ একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। যুদ্ধ বন্ধে বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে। এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখনো মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। খুব শিগগিরই পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের চূড়ান্ত মতামত ওয়াশিংটনের কাছে পাঠাতে পারে ইরান। সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।