হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। তবে এ দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইরান। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নতুন নৌ অভিযান শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় বাধা দিলে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এ অভিযান শুরু করেছেন। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর ইরান কার্যত প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন অভিযানে বাধা দিতে সক্রিয় রয়েছে। তাদের পাঠানো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকার হামলার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক উড়োজাহাজ এবং পানির নিচের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি দ্রুতগতির নৌকা ডুবিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের সব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ইরানি নৌযান ধ্বংস হয়নি এবং প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও হয়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও একই অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের হুমকির কারণে ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও চলমান সামরিক উত্তেজনা জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে আরও জটিল করে তুলছে।