সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ইরানি হামলা অব্যাহত থাকলে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের ইঙ্গিত সৌদি আরবের


প্রকাশ :

গালফ অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে রিয়াদ।

রোববার (৮ মার্চ) সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক হামলার কারণে গালফ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে দেশটি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, কোনো গালফ রাষ্ট্র নয়। তবে সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে এই আশ্বাসের তেমন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ওই আলোচনায় তিনি জানান, সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়াও দেওয়া হতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলা গালফ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব তারা সম্মান করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদকে তারা সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গালফ দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ রাখার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার ঘটনায় গালফ অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।