বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর


প্রকাশ :

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রথম সপ্তাহেই বড় পদক্ষেপ নিল প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণীত আইনের আওতায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে পাস হওয়া এই আইনে অস্ট্রেলিয়ার কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। আইন কার্যকরের পর মেটা এক ব্লগ পোস্টে জানায়, তারা ইনস্টাগ্রামে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯টি, ফেসবুকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি এবং থ্রেডসে ৩৯ হাজার ৯১৬টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।

সরকারের মতে, ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অ্যালগরিদমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতেই এই কঠোর আইন প্রয়োজন ছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নজর কাড়ছে। ফ্লোরিডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবলেও, অস্ট্রেলিয়ার মতো ১৬ বছরের কঠোর বয়সসীমা এবং বাবা-মায়ের অনুমতির সুযোগ না রাখার নজির খুব কম।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। মেটা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সরাসরি অ্যাকাউন্ট বন্ধের পরিবর্তে অ্যাপ স্টোর পর্যায়ে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সম্মতির ভিত্তিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অস্ট্রেলিয়ার অনেক অভিভাবক এই নীতিকে স্বাগত জানালেও প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিতে পারদর্শী শিশুরা ভিপিএন বা অন্য উপায়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আরও অনিরাপদ অনলাইন পরিবেশে চলে যেতে পারে। একই সঙ্গে এলজিবিটিকিউ+ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের অনলাইন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরছেন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এদিকে মেটাসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন এই আইনি কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ডিজিটাল আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি যুক্তরাজ্যের টরি দলও ২০২৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হলে একই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রযুক্তি সুবিধা ও শিশু সুরক্ষার এই টানাপোড়েনে আগামী দিনে শিশুদের অনলাইন অভিজ্ঞতা কোন পথে যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সূত্র: বিবিসি