বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

থালাপতি বিজয়ের আস্থা ভোটে জয়, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ


প্রকাশ :

তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থা ভোটে বড় জয় পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে থালাপতি বিজয় নামেই বেশি পরিচিত। বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি ১৪৪ ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন। বিপক্ষে পড়ে মাত্র ২২ ভোট। ভোটাভুটির আগে ডিএমকের ৫৯ জন বিধায়ক ওয়াকআউট করেন এবং ৫ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।

নিজ দলের পাশাপাশি আইইউএমএল, কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআই (এম) এবং এআইএডিএমকের একাংশের সমর্থন পান বিজয়। এতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন জোট ও ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আস্থা ভোটের আগের দিন থেকেই বিরোধী দল এআইএডিএমকে শিবিরে অস্থিরতা দেখা দেয়। দলের প্রধান এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এস পি ভেলুমানি ও সি ভি শানমুগামের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন বিধায়ক বিজয় সরকারের প্রতি সমর্থন জানান। বিদ্রোহী নেতারা অভিযোগ করেন, পালানিস্বামী গোপনে ডিএমকের সঙ্গে সমঝোতা করছেন।

এর জবাবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সি ভি শানমুগাম, এস পি ভেলুমানি ও সি বিজয় ভাস্করসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেওয়ায় ২৪ জন বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের আবেদন করেছে এআইএডিএমকে।

দলীয় পদ হারানোর পর সি ভি শানমুগাম বলেন, পালানিস্বামী দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কারের রাজনীতি করছেন এবং ভিন্নমত সহ্য করতে পারছেন না। তার অভিযোগ, দলের আদর্শ থেকে সরে গেছেন বর্তমান নেতৃত্ব।

এদিকে আস্থা ভোটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিজয় ডিএমকেকে “অহংকারী” বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, তার দল এককভাবে ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যেখানে ডিএমকের ভোট ছিল ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিজয়ের ভাষ্য, জনগণের রায়ে তার দলই বেশি সমর্থন পেয়েছে।

অন্যদিকে ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান জানিয়েছেন, বিজয়কে ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে তাকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেছেন বিজয়। মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭০০টির বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি। তবে নিজের জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত মিত্রদল ও বিরোধীদের চাপের মুখে ওই নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হয় সরকার।

এদিকে কেরালাতেও সরকার গঠন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের বড় জয়ের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত করতে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, সব আলোচনা শেষ হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে।