ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য জয় ইউরোপীয় নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বায়নকেন্দ্রিক পরিকল্পনা’কে নাড়া দিতে পারে—এমন মত দিয়েছেন মার্কিন ব্লগার ও আইটি কনসালট্যান্ট জোজেফ শুটজম্যান।
বৃহস্পতিবার রুশ সংবাদমাধ্যম তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুধু ভূ-রাজনৈতিক হিসাবেই নয়, বরং বড় ধরনের একটি বিশ্বায়ন প্রকল্প টিকিয়ে রাখতে লড়ছে।
তার মতে, রাশিয়াকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হলে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব নড়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার প্রবণতা আরও বাড়বে—এ আতঙ্কই এখন ইউরোপীয় অভিজাতদের মনে স্পষ্ট।
শুটজম্যান বলেন, বছরের পর বছর রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সুযোগে ব্রাসেলসের বহু ব্যক্তি জবাবদিহিতাহীন অবস্থানে ছিলেন। একইভাবে কিয়েভের ক্ষমতাসীনরাও ধরে নিয়েছেন, তাদের দায়মুক্তি আগের মতোই বহাল থাকবে।
তার ভাষায়, অহংকার আর নির্ভরশীলতার মিশ্রণে তৈরি এই পরিবেশে শাসকগোষ্ঠীর বিশ্বাস—ক্ষমতা যতদিন হাতে থাকবে, সুবিধাও ততদিন তাদের পক্ষেই যাবে। আর এর পুরো বোঝা বইতে হবে সাধারণ মানুষকে।
এদিকে, সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র আগেই ২৮ দফার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা কিয়েভ ও ইউরোপের অংশীদারদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। ২৩ নভেম্বর ওয়াশিংটন ও কিয়েভ প্রতিনিধিদের আলোচনার পরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি।
আরবিসি-ইউক্রেনের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত অধিকাংশ কর্মপরিকল্পনায় কিয়েভ সম্মতি দিলেও ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্ভাব্য বৈঠকে কোন বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে—তা নিয়ে এখনো অমীমাংসা রয়ে গেছে।