রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির মাঝেই গাজায় নতুন হামলা, প্রাণ গেল ২৪ জনের


প্রকাশ :

গাজায় আবারও রক্তক্ষয়ী দিন কেটেছে। ইসরায়েলের টানা বিমান হামলায় শনিবার অন্তত ২৪ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন। ছয় সপ্তাহ ধরে টিকে থাকা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনার পর।

গাজা সিটির উত্তর অংশে একটি গাড়িতে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর দেইর এল-বালাহ থেকে নুসেইরাত শরণার্থী শিবির—মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় হামলার দাপট বাড়তে থাকে। রেমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় একসঙ্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দেইর এল-বালাহর একটি বাড়িতে আঘাত হানলে একই পরিবারের তিনজন মারা যান, তাদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা খালিল আবু হাতাব বলেন, বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়; আশপাশের কয়েকটি ঘরের অংশ উড়ে গেছে।

নুসেইরাতের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাস্তার প্রতিটি অংশে ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসাবশেষ।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ৪৯৭ বার লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। তাদের হিসাবে, এসব হামলায় এত দিন ৩৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আক্রমণগুলো হামাসের এক সদস্যের হাতে সেনাদের ওপর হামলার জবাবে চালানো হয়েছে। এতে পাঁচজন হামাস সদস্য নিহত হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তি অমান্য করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ইজ্জাত আল-রিশেক বলেন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আড়ালে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরতে চাইছে।

পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা থামছে না। দক্ষিণ হেব্রন পাহাড়ে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পশ্চিম তীরজুড়ে এমন হামলার সংখ্যা ২৬০—২০০৬ সালের পর সর্বোচ্চ। মানবাধিকার কর্মকর্তা থামিন আল-খিতান বলেছেন, জবরদখল, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের পর্যায়েই পড়ে।

আপনি চাইলে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, আরও দীর্ঘ, বা স্থানীয় পত্রিকার লিড নিউজের ধাঁচে সাজিয়ে দিতে পারি।